ওয়েব ডেস্ক: বেশ কিছু বছর আগেও রবিবার দুপুর মানেই ছিল বাঙালি বাড়ির এক চেনা ছবি। রান্নাঘর থেকে ভেসে আসত খাসির মাংসের ঝোলের গন্ধ। হাঁড়িতে মাংসের সঙ্গে ফুটত বড় বড় আলু। ঝোল হত পাতলা কিন্তু স্বাদে ভরপুর। সেই ঝোল গরম ভাতের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার মজাই ছিল আলাদা। এখন বাড়িতে খাসি বা কচি পাঠার মাংস রান্না হয়, কিন্তু সেই ঝোল যেন ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। তার বদলে তৈরি হচ্ছে ঘন মশলাদার গ্রেভি। অনেকটা পেঁয়াজ, প্রচুর গরম মশলা এবং নানা রকম মশলার চাপে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে মাংসের নিজস্ব স্বাদ।
রন্ধন বিশারদদের মতে, খাসির ঝোলের সৌন্দর্য তার সরলতায়। বাড়ির রান্নার লোক থেকে পরিবারের নতুন প্রজন্ম খাসির পাতলা ঝোলের রান্না ভুলতে বসেছে। অনেক বাড়িতে মনসা পুজো বা কালী পুজোতে্ বলির পাঠার মাংসের কথা নিশ্চই মনে আছে। সেই রান্নায় পেঁয়াজ বা রসুন পড়ে না। শুধু আদা ও কিছু সাধারণ মশলা দিয়ে তৈরি হয় পাতলা ঝোল। কিন্তু তার স্বাদ ছিল অমৃতের মতো। অল্প মশলা, ধীরে কষানো এবং পরিমিত জল-এই তিন পুরনো দিনের খাসির মাংসের আসল রহস্য।
রান্নার পদ্ধতি ঠিক থাকলে সাধারণ কয়েকটি উপকরণ দিয়েই ফিরে যাওয়া যায় ছোটবেলার সেই স্বাদ। প্রথম গ্রাস মুখে দিলেই ফিরে আসবে ফেলে আসা রবিবারের সেই দুপুর, বাড়ি ভরা মানুষ ও ফিরে পাওয়া শৈশব।




