ওয়েব ডেস্ক: বাজি পোড়ানো নিয়ে কড়া অবস্থান রাজ্যের। ফানুস ওড়াতে চাইলে এবার থেকে অনুমতি লাগবে। যথেচ্ছভাবে ফানুস ওড়ানো আর যাবে না। নিরাপত্তার দিকে নজর দিতেই এই সিদ্ধান্ত। সামনেই রয়েছে কালীপুজো, দীপাবলি ও ছটপুজো। আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নবান্নে বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রদপ্তর, পরিবেশদপ্তর, পুলিশ, দমকল ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করেছে। সুপ্রিম কোর্ট ও কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশিকা মেনে উৎসবের সমস্ত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, পরিবেশ দপ্তরের সচিব সৌমিত্র গুপ্ত, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, কলকাতা পুলিশের নগরপাল অজয় নন্দ, দমকলের ডিজি মনোজ শর্মা, দমকল দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব খলিল আহমেদ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সদস্য-সচিব অশোক সিং।
সাংবাদিক বৈঠকে স্বরাষ্ট্র সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ বলেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ অনুমোদিত ‘সবুজ বাজি’ ছাড়া অন্য কোনও বাজি ব্যবহার করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে দীপাবলির দিন রাত ৮টা থেকে ১০টা এবং ছটপুজোর দিন ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্তই বাজি পোড়ানোর অনুমতি থাকবে। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত জানান, ফানুস ও এয়ার বেলুন ওড়ানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে। ফানুস ওড়ানোর সময় অতীতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে এ বিষয়ে কড়া নজরদারি চালানো হবে। কোনওরকম অশান্তি না ঘটে সেইদিকে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, কর্পোরেশন, পুরসভা ও পুলিশের চিহ্নিত নিরাপদ খোলা জায়গাতেই বাজির বাজার বসবে। সেখানে দমকলের ইঞ্জিন এবং অ্যাম্বুল্যান্সও মোতায়েন থাকবে। সবুজ বাজির ক্ষেত্রে শব্দ সৃষ্টিকারী বাজির সর্বোচ্চ মাত্রা ১২৫ ডেসিবল এবং আলোক সৃষ্টিকারী বাজির ক্ষেত্রে ৯০ ডেসিবল নির্ধারণ করা হয়েছে। হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-সহ সাইলেন্স জোনের ১০০ মিটারের মধ্যে বাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন ভাঙলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ জানিয়েছে, অনুমোদিত সবুজ বাজির প্যাকেটে থাকা কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করে সাধারণ মানুষ বাজিটির বৈধতা যাচাই করতে পারবেন। বহুতল আবাসনে বাজি ফাটানোর ক্ষেত্রেও বাসিন্দাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বেআইনি বাজির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।




