Homeলাইফস্টাইলপুজোদুর্গা রূপে আরাধ্যা কেন্দুয়া বুড়ি, পুজোয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া

দুর্গা রূপে আরাধ্যা কেন্দুয়া বুড়ি, পুজোয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া

পুরোহিত বাগদি সম্প্রদায়ের মানুষ

ঝাড়গ্রাম : ‘আশ্বিনের শারদ প্রাতে বেজে উঠেছে আলোকমঞ্জরী’। মহালয়া থেকে বাংলার চারদিকে এখন পুজো পুজো গন্ধ। গ্রামের মেঠো পথ থেকে শহরের কংক্রিটের জঙ্গল সর্বত্রই মায়ের আগমন বার্তা। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন রূপে পূজিত হয়ে থাকেন মা মহামায়া। ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে দুর্গারূপে পুজো পান কেন্দুয়া বুড়ি। এই পুজোতে রয়েছে ঐতিহ্যের ছোঁয়া। এই পুজোর পুরোহিত বাগদি সম্প্রদায়ের মানুষ।

গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের খাড়বান্ধি অঞ্চলের বালিপাল গ্রামে প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন কেন্দুয়া বুড়ির থান রয়েছে। আজও বহু মানুষ কেন্দুয়া বুড়ি মায়ের পুজো দেয়। প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবার বালিপাল গ্রামের কেন্দুয়া বুড়ির থানে পুজো হয়। কিন্তু দুর্গাপুজোর সময় চারদিন ধরে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয় এখানে। সমস্ত দেবদেবীর মন্দিরে ব্রাহ্মণ পুরোহিত থাকলেও এই কেন্দুয়া এখানে পুরোহিত হিসেবে পুজো করেন বাগদি সম্প্রদায়ের মানুষ। এদের দেহুরি বলা হয়।

শোনা যায়, ওড়িশার রাজা বালিপাল যুদ্ধে পরাজিত হয়ে গভীর জঙ্গলে এসে একটি গাছের নিচে বসেছিলেন। তাঁকে পরিশ্রান্ত অবস্থায় দেখে কন্যারূপে দেবী মা কেন্দুয়া বুড়ি দেখা দেন। রাজাকে মা একটি ফল খেতে দেন। তারপর কেন্দুয়াবুড়ি রাজা বালিপালের স্বপ্নে দেখা দেন। দেবী রাজাকে স্বপ্নাদেশ দিয়ে বলেছিলেন, তিনি গাছের নিচে রয়েছেন। রাজাকে পুজো করার নির্দেশ দেন তিনি। এরপর রাজা বালিপাল ওই জঙ্গলের মাঝে নিমগাছের নিচে মা- কেন্দুয়া বুড়ির পুজো শুরু করেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় ৫০০ বছর ধরে চলছে এভাবেই পুজো। তবে কোনও মন্দির নেই, কিন্তু চার পাশ ইটের দেওয়াল দিয়ে ঘেরা রয়েছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, মা জঙ্গলে থাকতে ভালোবাসেন, বিলাসবহুলভাবে থাকতে ভালোবাসেন না। দুর্গাপুজোর সময় চারদিন ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়। অনেকেই মানত করা তাঁদের পাঠা, ছাগল বলি দেন। কেন্দুয়া বুড়ি মায়ের থানের একটু পাশে দুর্গা মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে স্থায়ী মণ্ডপে দুর্গাপুজো হয়। রাজার নামে ওই এলাকার নাম হয়েছে বালিপাল গ্রাম।

এখনও বালিপাল গ্রামের কেন্দুয়া বুড়ির থানকে কেন্দ্র করে বহু লোককথা শোনা যায় বহু মানুষের মুখে। তাই নবমীর দিন লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয় কেন্দুয়া বুড়ির থান প্রাঙ্গণে। এই মন্দিরের পুরোহিত বলেন, পূর্বপুরুষ ধরে এই পুজো হয়ে আসছে। মা খুব জাগ্রত তাই দেশ-বিদেশ থেকে বহু মানুষ মাকে পুজো দিতে আসেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments