চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করাই বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) প্রধান লক্ষ্য। পুলিশের গাফিলতি হোক বা পুজো কমিটির ত্রুটি, তদন্তের আওতা থেকে কাউকেই বাদ দেওয়া হবে না। কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে গঠিত ছ’সদস্যের কমিটি দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের চিহ্নিত করতে চায়। তবে তিন মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার সময়সীমা যথেষ্ট সংক্ষিপ্ত বলেই মনে করছেন সিটের প্রধান।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জানিয়েছেন, প্রথমেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিপর্যয়ের নেপথ্যে থাকা ত্রুটি ও গাফিলতি চিহ্নিত করা হবে। ভিড়ের চাপ, বৃষ্টির প্রভাব, আলোর অভাব কিংবা ব্যবস্থাপনার কোনও খামতি—কোন কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, তা খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর কথায়, ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্দিষ্ট করে চিহ্নিত করা এবং কারা দায়ী, তা বের করাই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য।
তদন্তে পুলিশ প্রশাসন, পুজো কমিটি, দমকল বিভাগ, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার গাফিলতি প্রমাণিত হলে তার দায় নির্ধারণ করাই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
তিন মাসের সময়সীমা প্রসঙ্গে অনিন্দিতা রায় সরস্বতী জানিয়েছেন, হাতে সময় কম হলেও তদন্তের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হবে। নির্ধারিত সময়ের আগেই সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব কি না, তাও দেখা হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে দুর্গাপুজোয় এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়াতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়েও সুপারিশ করবে কমিটি।
এদিকে, চোরবাগানের মণ্ডপে প্রতিমা এখনও রাখা রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত মণ্ডপ ও প্রতিমা অপরিবর্তিত রাখার পক্ষেই মত দিয়েছেন সিটের প্রধান। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর প্রতিমা নিরঞ্জন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ, শুধু অতীতের গাফিলতির তদন্ত নয়, ভবিষ্যতে প্রাণহানি ঠেকানোর পথ খুঁজে বের করাও এই কমিটির অন্যতম দায়িত্ব।




