কলকাতা: আজ বিজয়া দশমী। চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনার পর প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্ক কলকাতা পুলিশ ও পুরসভা। বাবুঘাট, আহিরীটোলা, নিমতলা ও দহিঘাটে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিসর্জনের সময় কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করতেও প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার বিসর্জনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শহরের বিভিন্ন ঘাট পরিদর্শন করেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতা পুরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা। পুরসভায় বর্তমানে নির্বাচিত বোর্ড না থাকায় প্রশাসনিক স্তরেই বিসর্জন সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হচ্ছে। ঘাটের পরিকাঠামো, নিরাপত্তা এবং প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়।
কলকাতায় মূলত ২২টি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন হয়। দশমীর দিন সাধারণত বাড়ির পুজোর প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয় বলে প্রশাসনের উপর চাপ তুলনায় কম থাকে। সেই কথা মাথায় রেখে আগেভাগেই ঘাটগুলির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করা হয়েছে। তবে বেশি সংখ্যায় প্রতিমা নিরঞ্জনের কারণে বাবুঘাট, আহিরীটোলা, নিমতলা ও দহিঘাটে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এই চারটি ঘাটে নিরাপত্তার পাশাপাশি উদ্ধারকার্যের প্রস্তুতিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।
বিসর্জনে ক্রেনের ব্যবহার নিয়ে প্রথমে সংশয় তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য ক্রেন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জলে কেউ পড়ে গেলে যাতে দ্রুত উদ্ধার করা যায়, সে জন্য কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
চোরবাগান কাণ্ডের পর বিসর্জন পর্বে কোনও ধরনের গাফিলতি এড়ানোই প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।




