HomeBig Breaking'প্রাতিষ্ঠানিক চোরদের জেলে যেতেই হবে’, দুর্নীতির মামলায় আরও প্রাক্তন মন্ত্রী কি তদন্তের...

‘প্রাতিষ্ঠানিক চোরদের জেলে যেতেই হবে’, দুর্নীতির মামলায় আরও প্রাক্তন মন্ত্রী কি তদন্তের আওতায় ?

কণাদ দাশগুপ্ত

“প্রাতিষ্ঠানিক চোরদের জেলে যেতেই হবে।” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত প্রাক্তন মন্ত্রীরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে নিয়োগ, রেশন বণ্টন এবং সরকারি অর্থের ব্যবহার নিয়ে ওঠা একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলছে। প্রাক্তন দুই মন্ত্রী, সুজিত বসু ও ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারির পর প্রশ্ন, তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কি আরও প্রাক্তন মন্ত্রীদের ঘিরে? তবে রাজনৈতিক জল্পনা আর তদন্তকারী সংস্থার হাতে থাকা প্রমাণ এক বিষয় নয়। নতুন গ্রেফতারির সম্ভাবনা নিয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর অবকাশ নেই। যদিও শোনা যাচ্ছে , কেন্দ্রীয় এজেন্সির রাডারে আরও একাধিক প্রাক্তন
মন্ত্রীর নাম রয়েছে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছে, তৃণমূলের আসনসংখ্যা নেমেছে ৮০-তে। এখন তো দু-তিন ভাগে বিভক্ত তৃণমূল। দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ ছিল বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয়। ফলে ক্ষমতায় আসার পরে সেই অভিযোগগুলির তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানো নতুন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিরও পরীক্ষা। সুজিত বসুর বিরুদ্ধে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বেআইনি ভাবে প্রায় ১৫০ জনের চাকরির সুপারিশ করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ১৩ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করেছে।

ইন্দ্রনীল সেনকে ২৮ অক্টোবর গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো ও বিশেষ প্রবেশমূল্যের পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে ৫০–৬০ কোটি টাকার কথিত আর্থিক অনিয়মের তদন্ত করছে ইডি। তদন্তকারীদের অভিযোগ, UNESCO-র সঙ্গে অনুমোদিত সম্পর্কের ধারণা তৈরি করে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। এই অভিযোগের চূড়ান্ত বিচার এখনও বাকি।

এই তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ নাম জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রেশন বণ্টন দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি জামিন পান। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ ছিল, গণবণ্টন ব্যবস্থার ভর্তুকিযুক্ত খাদ্যশস্যের একটি অংশ খোলা বাজারে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আরও একটি বড় নাম পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। এই মামলাগুলি দেখিয়েছে, প্রাক্তন সরকারের আমলে ওঠা অভিযোগের তদন্ত একাধিক সংস্থা চালিয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

এখন শুভেন্দু সরকারের সামনে আসল চ্যালেঞ্জ আরও নাম ঘোষণা করা নয়, বরং অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত ও আদালতে প্রমাণ পেশ নিশ্চিত করা। ভোটে দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। সেই প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করবে তদন্তের গতি, স্বচ্ছতা এবং দোষ প্রমাণিত হলে আইনি পদক্ষেপের উপর। আরও প্রাক্তন মন্ত্রী গ্রেফতার হবেন কি না, তার উত্তর রাজনৈতিক পূর্বাভাসে নয়—মিলবে তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতের প্রক্রিয়ায়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments