ওয়েব ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে বিধান পরিষদের শিক্ষক আসনে জয়ের পর স্নাতক আসনেও ভালো ফল করেছে সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। উত্তরপ্রদেশে আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ফল বিজেপির কাছে রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে। বিশেষত শিক্ষক ও স্নাতকদের মতো শিক্ষিত ভোটারদের একাংশের সমর্থন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই ফলকেই রাজ্যজুড়ে বিজেপির জনসমর্থন কমার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখার অবকাশ নেই।
উত্তরপ্রদেশের ১১টি বিধান পরিষদ আসনের মধ্যে রাত পর্যন্ত পাওয়া ফল অনুযায়ী, ছ’টিতে জয়ী বিজেপি এবং চারটিতে এসপি। ফলে সামগ্রিক আসনসংখ্যার নিরিখে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও, বারাণসীর শিক্ষক ও স্নাতক আসন ঘিরে লড়াই রাজনৈতিক নজর কেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির কেন্দ্রেই এসপি-র এই অগ্রগতি বিরোধীদের কাছে প্রচারের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। অন্য দিকে, বিজেপির পক্ষে এই ফলকে বিচ্ছিন্ন নির্বাচনী পরিস্থিতির নিরিখে দেখার যুক্তিও রয়েছে।
চার রাজ্যের ২৮টি বিধান পরিষদ আসনের নির্বাচনে কংগ্রেস কোনও আসন জিততে পারেনি। কর্নাটকের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিজেপি এবং একটিতে এনডিএ-র শরিক জেডিএস জয়ী হয়েছে। বিহারে আটটি আসনের মধ্যে বিজেপি দু’টি এবং জেডিইউ একটি আসন পেয়েছে। পটনার শিক্ষক আসনে আরজেডির কাছে হেরেছে বিজেপি। দ্বারভাঙার শিক্ষক আসনে জিতেছে প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ। এই ফলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাতও শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের আসন না পাওয়া নিয়ে সমাজমাধ্যমে কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। পাল্টা কংগ্রেস নেতা পবন খেরা প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রী এতটাই আত্মবিশ্বাসী হলে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনও ব্যালটে করানো হোক।
সব মিলিয়ে, বিধান পরিষদের ফল বিজেপি ও বিরোধী—দু’পক্ষের কাছেই রাজনৈতিক বার্তা তৈরির সুযোগ দিয়েছে। তবে আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনে তার প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে বৃহত্তর জনমত, স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ এবং নির্বাচনী প্রচারের উপর।




