ওয়েব ডেস্ক: ইয়ানামে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। বুধবার ভোরে শুরু হয়েছে অর্ণবের ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া। পূর্বাভাস সত্যি করে বুধবার ভোরবেলাতেই ল্যান্ডফল করল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। অন্ধ্র উপকূলে রাত প্রায় ২-৩টে নাগাদ আছড়ে পড়া শুরু করে এই অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়। তখন থেকেই অর্ণবের ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া শুরু হয়ে তা এখনও চলছে। অর্ণব’-এর, ধ্বংসলীলা চলছে।এর প্রভাবে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হচ্ছে। মৌসম ভবন জানিয়েছে, অর্ণবের উত্তরের সর্পিল অংশ ঢুকে পড়েছে উপকূলে। কেন্দ্রভাগ অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড়ের ‘আই’ স্থলভাগের খুব কাছাকাছি রয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের কাঁকিনাড়ার কাছে ইয়ানামে রাত ১.২৩-এ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর ল্যান্ডফল হয়েছে। আজ বুধবারও চলছে এই প্রক্রিয়া। বুধবার ভোরে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থলভাগে প্রবেশের পর অর্ণব প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার গভীর রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের কাকীনাডার নিকটবর্তী পুদুচেরীর ইয়ানামের কাছে ‘ল্যান্ডফল’ প্রক্রিয়া শুরু হয়। সে সময় হাওয়ার বেগ ১২৫-১৩৫ কিলোমিটার ছিল, দমকা হাওয়ার বেগ কোথাও কোথাও ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে অন্ধ্রপ্রদেশে। এ ছাড়া ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকাতেও চলছে ঝড়ের তাণ্ডব।
আরও পড়ুন
ল্যান্ডফলের সময় এর গতি ছিল সর্বোচ্চ ১৫০ কিমি। আগামী ২ থেকে ৩ ঘণ্টা এই তীব্রতা বজায় থাকতে পারে। তার পর ধীরে ধীরে ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি কমতে শুরু করবে। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া চলছে। ঝড়ে ২০০টিরও বেশি গাছ উপড়ে গিয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলপালেমে ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে ঝড়ের সামনে পড়ে। ওড়িশার অবস্থাও প্রবল খারাপ। প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে।ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে পিঠাপুরম, কাকিনাড়া, রামচন্দ্রপুরম ও অমলাপুরমে তীব্র বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ধান, শাকসবজি ও নারকেলসহ সমস্ত কৃষিজমি জলে ভেসে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। বহু ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে এবং গত ১২ ঘণ্টা ধরে এলাকা বিদ্যুৎহীন। বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল, সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়বে বাংলাতেও। একাধিক জায়গায় ইতিমধ্যেই হালকা বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বিশাখাপত্তনমে ২১৬.৯ মিমি, কলিঙ্গপত্তনমে ১৪৭.৫ মিমি, তুনিতে ১২৩.৩ মিমি এবং কাকিনাড়ায় ১১৮.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় ওড়িশায় ৩১৩টি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৬০টি দল, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৯টি দল এবং দমকল ও জরুরি পরিষেবার ২৪৪টি দল। পাশাপাশি প্রস্তুত রয়েছে ২,০৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র। ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভবতী মহিলাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আগেই। মৎস্যজীবীদেরও উপকূলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে সোমবারের মধ্যে। ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় একাধিক ট্রেন বাতিল করেছে রেল। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কমিটির বৈঠকে প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়।




