কণাদ দাশগুপ্ত : কয়েক দশক ধরে অন্যেরা লিখেছেন তাঁর জীবনের গল্প। কখনও সেই গল্পে মিশেছে রাজনীতি, কখনও বিতর্ক, কখনও বা এমন কিছু কথা, যা তাঁর নিজের কাছে সত্যি নয়। এ বার সেই সব কিছুর জবাব নিজের ভাষায় দিতে চান সোনিয়া গান্ধী। আত্মজীবনী Belonging: A Journey of Love প্রকাশের আগে তাঁর কথায়, বই প্রকাশিত হলে ‘তামাশা’ তো হবেই। কারণ, এত দিন অন্যেরা তাঁর গল্প বলেছেন, এ বার নিজের কথা বলার পালা তাঁর।
মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিয়োয় কংগ্রেসের সংসদীয় দলের নেত্রী জানিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে বহু কথা লেখা হয়েছে। তার অনেকটাই হয় ভুল, নয়তো অতিরঞ্জিত। তাই নিজের জীবনের ঘটনা, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতা নিজের মতো করে তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, বই পড়ে কারও চোখে তাঁর ভাবমূর্তি বদলাতে পারে, কারও ধারণা আরও খারাপও হতে পারে। কিন্তু জনজীবনে থাকলে এমন প্রতিক্রিয়া আসবেই।
বিদায়ের পথে অক্টোবর, তবু বৃষ্টির চোখরাঙানি! কেমন থাকবে বাংলার আবহাওয়া?
এই আত্মকথনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশগুলির একটি তাঁর স্বামী রাজীব গান্ধীকে ঘিরে। ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পর রাজীবকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি তার সম্পূর্ণ বিরোধিতা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন সোনিয়া। সেই সময়ের ব্যক্তিগত অনুভূতি ও পরিস্থিতির কথা তাঁর স্মৃতিচারণে কী ভাবে উঠে আসে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
১০ নভেম্বর প্রকাশিত হতে চলেছে বইটি। ইতালিতে শৈশব, কেমব্রিজে রাজীবের সঙ্গে প্রথম পরিচয়, প্রেম, বিয়ে, ভারতীয় জীবনে মানিয়ে নেওয়া এবং পরিবারের একের পর এক শোক—সবই রয়েছে এই আত্মজীবনীর পরিসরে।
ইন্দিরা ও রাজীব গান্ধীর মৃত্যু যে ব্যক্তিগত জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল, সেই ইতিহাসের সঙ্গে সোনিয়ার রাজনৈতিক উত্থানও জড়িয়ে রয়েছে।
সোনিয়ার এই বই তাই শুধু এক রাজনীতিকের আত্মকথা নয়, প্রেম, কর্তব্য, হারানো এবং নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়ার এক দীর্ঘ যাত্রার দলিলও।




