কলকাতা: আজ বিজয়া দশমী। সকাল থেকেই রাজ্যের একাধিক ঘাটে বিসর্জনের প্রস্তুতি তুঙ্গে। চলতি বছর প্রতিমা বিসর্জনে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে রাজ্যের তরফে। চোরবাগান বিপর্যয়ের পর আরও বেশি সতর্ক। নবমীর রাত থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন ঘাটে। দশমীর সকালে শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজে কদমতলা ঘাটে ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, মাকে নিয়ম মেনে কৈলাসে পাঠানো হবে। শাস্ত্র মতে যা করা হয়, তার এক চুলও এদিক ওদিক হবে না। এর সঙ্গেই বলে দিলেন, নিরঞ্জনের সময় প্রতিমাকে স্পর্শ করতে পারবেন শুধুমাত্র সনাতনীরাই।
দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন ঘিরে নতুন নির্দেশ দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিসর্জনের সময় শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই প্রতিমা স্পর্শ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার কলকাতার বাবুঘাটে বিসর্জনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হুগলি নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের সময় যাঁরা প্রতিমা বহন করবেন, তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সনাতন ধর্মে বিশ্বাসীরাই প্রতিমা স্পর্শ করবেন। এই বিষয়টিকে সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিন সকালে বাজে কদমতলা ঘাটে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। খতিয়ে দেখেন সামগ্রিক পরিস্থিতি।
গঙ্গায় দূষণ নিয়ন্ত্রণে এর আগে প্রতিমা ভাসানোর পর পরই ক্রেন দিয়ে তুলে ফেলা হত। তাতে বাঙালিরা ক্ষুন্ন হন। সেকথা মাথায় রেখে এবার ট্রলির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। কোনওরকম আপত্তিকর পরিস্থিতি বা দুর্ঘটনা এড়াতে প্রত্যেকটি ঘাটে রাখা হচ্ছে এনডিআরএফ। প্রয়োজনে কলকাতা পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর এবং কলকাতা পুরসভা কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ-সহ অন্যান্য সংস্থার সাহায্য নিতে পারবে। ২৪ অক্টোবর বিসর্জন পর্ব শেষ হলে নদীর জল পরিষ্কারের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।




