ওয়েব ডেস্ক: পুজো একই, মণ্ডপও প্রায় একই। কিন্তু বদলে গিয়েছে পরিচিত মুখের উপস্থিতি, বদলেছে উদ্যোক্তার আসন। যে দুর্গাপুজোগুলির সঙ্গে এত দিন তৃণমূলের একাধিক নেতা কার্যত সমার্থক হয়ে উঠেছিলেন, এ বার সেই মণ্ডপগুলিতেই দেখা যাচ্ছে নতুন রাজনৈতিক বিন্যাস। কোথাও বিজেপি নেতার হাতে আয়োজনের দায়িত্ব, কোথাও পুরনো উদ্যোক্তা কার্যত অনুপস্থিত। তবে এই ছবির মধ্যেও ব্যতিক্রম রয়েছেন কুণাল ঘোষ ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
চেতলা অগ্রণী মানেই ফিরহাদ হাকিম, সুরুচি সংঘের পরিচিত মুখ অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাস, নাকতলা উদয়ন সংঘের সঙ্গে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম—এই সমীকরণে অভ্যস্ত ছিল কলকাতা। এ বার সেই পরিচিতিতে ছেদ। চেতলায় ববির উপস্থিতি আগের মতো নেই। সুরুচির আয়োজনের সামনে রয়েছেন বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার। নাকতলা উদয়নের প্রধান উপদেষ্টা বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী।
শ্রীভূমির পুজোয় সুজিত বসুর অনুপস্থিতির জায়গায় দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বিজেপি নেতা কনক দেবনাথ। হাতিবাগান সার্বজনীনে অতীন ঘোষের উপস্থিতিও এ বার তেমন চোখে পড়ছে না। তৃণমূলের দুই শিবিরের টানাপড়েনের মধ্যে তাঁর অবস্থান নিয়েও জল্পনা রয়েছে। রাজডাঙা নব উদয় সংঘের আয়োজনেও এ বার বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
পার্থ জেলমুক্তির পর বাড়িতে থাকছেন, উদয়ন সংঘের আয়োজনের সঙ্গে তাঁর আগের সম্পর্ক আর দৃশ্যমান নয়। সুজিত বসুও জেলবন্দি।
তবু ছবিটা একরঙা নয়। কুণাল ঘোষ ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পুজোর মণ্ডপে আগের মতোই দেখা যাচ্ছে। ফলে এ বারের কলকাতার পুজো শুধু প্রতিমা, আলোকসজ্জা বা থিমের গল্প নয়—এ শহরের রাজনৈতিক উপস্থিতি, অনুপস্থিতি এবং ক্ষমতার বদলে যাওয়া সমীকরণেরও এক নীরব দলিল।




