বঙ্গোপসাগরের ওপরে তৈরি গভীর নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব গত ৬ ঘন্টায় ১৫ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম দিকে এগিয়ে আসছে। সোমবার অর্থাৎ ২৬ অক্টোবর এটি পূর্বমধ্য ও সংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। গোপালপুর থেকে ৫৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে অবস্থান করছে এই ঘূর্ণিঝড়।
সোমবার অর্থাৎ আজ মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড় শক্তি বাড়াবে। ২৭ অক্টোবর অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ থাকবে ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। ১৩০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইবে। মঙ্গলবার বিকেলে এই ঘূর্ণিঝড় অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। ২৮ অক্টোবর অর্থাৎ বুধবার সকালে এই একই শক্তি নিয়ে উপকূলের কাছে এগিয়ে আসবে এবং দুপুরের মধ্যে বাটতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যে ইয়ানামের কাছে, অন্ধপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ল্যান্ডফল করবে।
এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বাংলায় কতটা পড়বে তা নিয়েই চিন্তিত বঙ্গবাসী। পরোক্ষভাবে এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়বে বাংলায়। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র উত্তাল থাকবে মঙ্গলবার থেকেই। এছাড়াও জানানো হয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝারগ্রামে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি এবং ঘন্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইবে। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায়। যার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম। বৃহস্পতিবার দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় ভারী বৃষ্টি চলবে। সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইবে। কলকাতা সহ দক্ষিণের বাকি জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস হয়েছে।
একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গেও বৃহস্পতিবার থেকে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হবে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে শুক্রবার পর্যন্ত। কলকাতায় মঙ্গলবার থেকে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি সম্ভাবনা থাকলেও, বুধবার ও বৃহস্পতিবার শহরে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির হলুদ সর্তকতা জারি করা হয়েছে।




