কণাদ দাশগুপ্ত
আর এন রবি যদি সত্যিই দিল্লিতে নতুন দায়িত্ব নিতে যান, তা হলে বাংলার রাজভবনে তাঁর উত্তরসূরি কে? অজিত ডোভালের সম্ভাব্য বিদায় ঘিরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদে রবির নাম আলোচনায় আসতেই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী রাজ্যপাল নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। কারণ, রবির দিল্লিযাত্রা বাস্তব হলে রাজভবনের শূন্যস্থান পূরণ করতে হবে কেন্দ্রকেই।
তবে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট নাম প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে রাজনৈতিক মহলে নানা নাম নিয়ে আলোচনা চললেও সেগুলিকে নিশ্চিত খবর বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। বরং নজর রয়েছে কেন্দ্রের সম্ভাব্য পছন্দের দিকে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনও প্রাক্তন আমলা, অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা, নাকি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনও ব্যক্তিকে রাজভবনে পাঠানো হবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এই নিয়োগকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্কের সমীকরণ নতুন জায়গায় পৌঁছেছে। ফলে পরবর্তী রাজ্যপাল নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিজেপির অন্দরেও এই নিয়োগ নিয়ে আলোচনা স্বাভাবিক। বিরোধী দলগুলিও নজর রাখবে, নতুন রাজ্যপাল রাজ্য সরকারের সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক বজায় রাখেন।
সংবিধানের ১৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিই রাজ্যপাল নিয়োগ করেন। বাস্তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার পরামর্শেই সেই সিদ্ধান্ত হয়। অর্থাৎ, বাংলার পরবর্তী রাজ্যপাল বাছাইয়ের চাবিকাঠি নবান্নের হাতে নয়, দিল্লির হাতে।
তাই প্রশ্ন শুধু কে আসবেন, তা নয়—কেন্দ্র কেমন প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক ভূমিকার প্রত্যাশা নিয়ে তাঁকে পাঠাবে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।




