কণাদ দাশগুপ্ত, কলকাতা: তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ে নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী বলে পরিচিত একাধিক বিধায়কের অবস্থানে বদলের আভাস মিলতেই সক্রিয় হয়েছে মমতা তৃণমূল শিবির। কারা পুরনো শিবিরে ফিরতে চান, কাদের ফেরানো হবে এবং কাদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা হবে, তা নিয়ে কালীঘাটে শুরু হয়েছে হিসাবনিকাশ। অর্থাৎ, শুধু প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নয়, প্রত্যেকের রাজনৈতিক ভূমিকা ও অতীত অবস্থান খতিয়ে দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ করতে চাইছে মমতা শিবির।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঋতব্রত-পন্থী শিবিরের একাংশের সুর বদল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ইতিমধ্যেই কাশেম সিদ্দিকি, তৌসিফউর রহমান এবং আব্দুল মাতিন মমতা তৃণমূলে ফিরেছেন দাবি করা হচ্ছে। তাঁদের প্রত্যাবর্তনের পর আরও কয়েকজন বিধায়কের অবস্থান বদল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন
এই তালিকায় হামিদুল রহমান, কাজল শেখ এবং মিনহাজুল আফরিন আজাদের নাম উঠে এসেছে। তাঁদের অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁদের প্রত্যেকের প্রত্যাবর্তন বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। এই পরিস্থিতিতে মমতা শিবিরের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ, প্রত্যাবর্তনে আগ্রহীদের গ্রহণ করলেও দলের ভিতরে পুরনো ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা। কারণ, রাজনৈতিক সংঘাতের সময় যাঁরা পৃথক অবস্থান নিয়েছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককে একইভাবে গ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ফলে ঋতব্রত শিবিরের সম্ভাব্য ভাঙন যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে কম তাৎপর্যপূর্ণ নয় কালীঘাটের প্রত্যাবর্তন-নীতি। শেষ পর্যন্ত কারা দলে ফিরবেন, কারা বাইরে থাকবেন, তার উপরেই নির্ভর করতে পারে তৃণমূলের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ।




