ওয়েব ডেস্ক: বিধানসভায় আস্থা ভোট হলে ২৭৫ জন বিধায়কের সমর্থন পাবেন বলে দাবি করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বরানগরে চোরবাগান পদপিষ্ট কাণ্ডে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, বিধানসভায় পরদিনই আস্থা ভোট হোক। তাঁর দাবি, বিরোধী শিবিরে থাকা ৬৪ জন বিধায়কও তাঁর সরকারের পক্ষে ভোট দিতে প্রস্তুত। তবে আস্থা ভোটের কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি।
শুভেন্দুর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপি ২০৮টি আসনে জয়ী হয়েছিল। পরে রেজিনগর উপনির্বাচনে জয়ের ফলে দলের বিধায়ক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২০৯। মুখ্যমন্ত্রীর ২৭৫ জনের সমর্থন পাওয়ার দাবি কার্যকর হলে আরও ৬৬ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন হবে। সেই সমর্থন কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিরোধী শিবিরে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন মমতা-অনুগামী শিবিরের নেতা তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি গোপন ব্যালটে আস্থা ভোট করার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, তেমন ভোট হলে বিজেপির অন্দরেও ভাঙন প্রকাশ্যে আসতে পারে। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর কটাক্ষ, বিরোধী শিবিরের ৬৪ জন বিধায়ক যদি মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে ভোট দিতে প্রস্তুত থাকেন, তা হলে তাঁরা প্রকৃত অর্থে বিরোধী নন। তাঁর মতে, এই বক্তব্য গণতন্ত্রের পক্ষে উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে, বিজেপিকে সমর্থনের জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন গণতান্ত্রিক তৃণমূল গোষ্ঠীর বিধায়ক আখরুজ্জামান। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। ফলে শুভেন্দুর দাবিতে রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়লেও, কথিত ৬৪ বিধায়কের পরিচয় এখনও স্পষ্ট নয়।




