কলকাতা: তৃণমূলের ঘরোয়া লড়াই এখন আর নিছক ক্ষমতা দখলের বিবাদ নয়, প্রকাশ্যে রাজনৈতিক অস্তিত্বের সংকট! দুই শিবিরের সংঘাতকে হাতিয়ার করে এ বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়—দু’পক্ষকেই একযোগে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কটাক্ষ, তৃণমূল কংগ্রেস বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। একটি মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যটি ঋতব্রত নেতৃত্বাধীন ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস। দু’পক্ষেরই রাজনৈতিক অবস্থা শোচনীয়।
শুভেন্দুর কথায়, মমতাপন্থী শিবিরের অবস্থা ‘গরুরগাড়ির হেডলাইট’-এর মতো। আর ঋতব্রতদের অবস্থা তার থেকেও খারাপ। অর্থাৎ, যে দল একসময় বাংলার রাজনীতিতে একচ্ছত্র আধিপত্যের দাবি করত, আজ সেই দলই নিজেদের নাম, প্রতীক এবং রাজনৈতিক পরিচয় বাঁচাতে ব্যস্ত।
আরও পড়ুন:
এত দিন কালীঘাটপন্থীরা ঋতব্রত শিবিরকে বিজেপির দোসর বলে আক্রমণ করে এসেছে। এ বার প্রকাশ্যেই সেই শিবিরকে নিশানা করলেন শুভেন্দু। তাৎপর্যপূর্ণ, দলের মূল নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের মালিকানা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে দুই পক্ষের লড়াই এখনও চলছে। বৃহস্পতিবার ঋতব্রত শিবিরের নথি জমা দেওয়ার কথা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুর এই আক্রমণ আসলে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভাঙনকে সামনে এনে দুই শিবিরের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। একদিকে মমতার নেতৃত্বের সংকট, অন্যদিকে ঋতব্রতদের গ্রহণযোগ্যতার পরীক্ষা—তৃণমূলের দুই তরফই এখন অস্তিত্বের লড়াইয়ে।




