কণাদ দাশগুপ্ত: কলকাতার পুজোয় এ বার আমন্ত্রণের রাজনীতিতেও পালাবদলের ইঙ্গিত! যে শহরে একসময় পুজোর উদ্বোধন মানেই ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির দাপট, সেখানে এখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে পুজো কমিটিগুলির আগ্রহ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার বার্তা দিচ্ছে। সোমবার এক দিনেই ১৫টি পুজোর উদ্বোধন করেছেন শুভেন্দু। ব্যস্ততা সামলাতে সামলাতেও তাঁর স্পষ্ট বার্তা—কোনও পুজো কমিটিকে নিরাশ করতে চান না তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই সক্রিয়তা যেমন তাঁর জনসংযোগের তৎপরতাকে তুলে ধরছে, তেমনই পুজোর ময়দানে তৃণমূলের প্রভাব কমছে বলে তাঁর দাবি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
দুই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপির জয় উদ্যাপনে আয়োজিত বিজয় সমাবেশে শুভেন্দুর বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য এখানেই। একদিকে বিজেপি নেতৃত্বের অবস্থান, পুজো ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব—তার উপর কোনও দলের একচেটিয়া অধিকার থাকতে পারে না। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও পুজোর দখলদারি ও রাজনীতিকরণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। অন্যদিকে, সেই বিজেপির মঞ্চ থেকেই পুজো কমিটির আমন্ত্রণকে তৃণমূলের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে তুলে ধরেছেন শুভেন্দু। এই বৈপরীত্যের মধ্যেও তাঁর রাজনৈতিক কৌশল স্পষ্ট—পুজোর সঙ্গে জনসংযোগের সেতু গড়ে তোলা, আবার বিরোধীদের রাজনৈতিক দুর্বলতার অভিযোগও সামনে আনা।
শুভেন্দুর আক্রমণের নিশানায় ছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রামমন্দির উদ্বোধনের দিন তাঁর অবস্থান, হিন্দুধর্ম নিয়ে মন্তব্য এবং কুম্ভমেলা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য টেনে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তৃণমূলের সঙ্গে হিন্দু সমাজের একাংশের দূরত্ব বেড়েছে। নাম না করে নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকেও কটাক্ষ করেন তিনি। অর্থাৎ, পুজোর আমন্ত্রণের প্রশ্নকে শুভেন্দু বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
তবে পুজো কমিটির আমন্ত্রণই জনসমর্থনের চূড়ান্ত মাপকাঠি নয়। শুভেন্দুর পক্ষে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বহু পুজো কমিটির কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন। সেই উদ্যোগের মর্যাদা বাড়বে তখনই, যখন উৎসবের স্বাধীনতা ও অরাজনৈতিক চরিত্রও অক্ষুণ্ণ থাকবে। তৃণমূলের জন্যও বার্তা স্পষ্ট—দীর্ঘদিনের ক্ষমতা স্থায়ী জনসমর্থনের নিশ্চয়তা নয়। পুজোর মণ্ডপে তাই এ বার দেবীর আরাধনার পাশাপাশি চলছে রাজনৈতিক প্রভাবেরও পরীক্ষা।




