কলকাতা: পুজোর আবেগ, ইউনেসকোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আর বাঙালির সাংস্কৃতিক গর্বকে হাতিয়ার করে কোটি কোটি টাকার কারবারের অভিযোগ! প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারের পর এবার লালবাজারের নজরে তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন। পুজোর পাস জালিয়াতি ও আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। ফলে তদন্তের আঁচ এবার সরাসরি পৌঁছল প্রাক্তন মন্ত্রীর পরিবারের অন্দরেও।
‘মাস আর্ট’ সংস্থাকে ঘিরে এই বিতর্ক। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রবেশের ভিআইপি পাস বিক্রির নামে ইউনেসকোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল টাকা তোলা হয়েছিল। অথচ ওই সংস্থার ইউনেসকোর নাম বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না বলে দাবি তদন্তকারীদের। সংস্থাটির সঙ্গে মধুছন্দার যোগসূত্র রয়েছে। তিনি সংস্থার সভাপতি বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। পরে ইডিও আর্থিক তছরুপের অভিযোগে তদন্তে নামে। লালবাজারের দাবি, পুজোর পাস বিক্রি এবং সরকারি দপ্তরের অনুষ্ঠান ও বইমেলার টেন্ডার বণ্টন মিলিয়ে প্রায় ১১৫ কোটি টাকার দুর্নীতির সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইন্দ্রনীলের স্ত্রী, মেয়ে ও আত্মীয়দের নামে থাকা একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ার অভিযোগও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে।
আরও পড়ুন:
বুদ্ধদেবের সন্তান সুচেতনের বিস্ফোরক অভিযোগ, ইন্দ্রনীলের ঔদ্ধত্যের কাহিনি এবার প্রকাশ্যে
উল্লেখ্য, বুধবার ইডির দফতর থেকে বেরনোর পরই গ্রেপ্তার হন ইন্দ্রনীল। বর্তমানে তিনি ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে। এবার মধুছন্দাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে টাকার উৎস, লেনদেন এবং সংস্থার প্রকৃত ভূমিকা জানতে চাইছে পুলিশ।
যে দুর্গোৎসব বাংলার মানুষের সর্বজনীন আনন্দের প্রতীক, সেই উৎসবের নামেই যদি ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থসিদ্ধির অভিযোগ ওঠে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। রাজনৈতিক ক্ষমতা ও পরিচিতির প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায় এড়ানোর কোনও সুযোগ থাকা উচিত নয়।




