কলকাতা: এক বর্ণময় অধ্যায়ের আকস্মিক অবসান।প্রয়াত জনপ্রিয় অভিনেতা নানা পাটেকর। প্রয়াণকালে অভিনেতার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। সূত্রের খবর, গোয়ায় নিজের বাড়িতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ সংজ্ঞা হারান তিনি। হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। ৫.২০ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত জনপ্রিয় অভিনেতা। নানা পাটেকরের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ চলচ্চিত্র মহল। বর্ষীয়ান অভিনেতার প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন পোস্ট করে কিংবদন্তি শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তিনি।
পোস্ট করে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “কিংবদন্তি অভিনেতা শ্রী নানা পাটেকরজির আকস্মিক প্রয়াণের খবর শুনে দিনটা শুরু হওয়া চরম ধাক্কার। এটা একটা হৃদয়বিদারক অনুভূতি।” তিনি মনে করিয়ে দেন, নানা পাটেকর কোনও সাধারণ অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’ কিংবা ‘প্রহার’-এর মতো সিনেমায় তাঁর দাপুটে অভিনয় আজও দর্শকের মনে গেঁথে রয়েছে। পাশাপাশি ‘অব তক ছপ্পন’-এর মতো থ্রিলার ছবিতে তাঁর অভিনয় মনে গেঁথে রয়েছে। তা তিনি মাইলফলক তৈরি করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর শোকবার্তায় ঠিক এই কথাগুলোই উঠে এসেছে।
নানা পাটেকর ছিলেন ভারতীয় সিনেমার অন্যতম পরিচিত অভিনেতা। হিন্দি ও মারাঠি— দুই ভাষার ছবিতেই দীর্ঘ সময় ধরে অভিনয় করেছেন তিনি।১৯৭৮-এ মুজফফর আলির ‘গমন’ ছবির হাত ধরে, প্রথম রূপোলি পর্দায় পা রেখেছিলেন কিংবদন্তি অভিনেতা। ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’, ‘অব তক ছপ্পন’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ছবি পরিচালনাও করেছেন। ১৯৯১ সালে ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। নানা পাটেকরের পরিচালনায় মাধুরী দীক্ষিত অভিনীত ‘প্রহার’ দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। ‘খামোশি দ্য মিউজিক্যাল’-এ তাঁর অভিনয় চিরস্মণীয় হয়ে থাকবে। অভিনয়ের জন্য তিনি একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। অভিনেতা। সূত্রের খবর, গোয়া থেকে অভিনেতার মরদেহ মুম্বইতে নিয়ে আসা হচ্ছে।




