নিজস্ব প্রতিনিধি: উৎসবের মরশুমের মুখে বলি-দুনিয়ায় দুঃসংবাদ। বৃহস্পতিবার সকালে গোয়ায় নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে অভিনেতা নানা পাটেকরের। ঘর থেকে তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। নানা পাটেকরের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ চলচ্চিত্র মহল। অনুরাগী থেকে শুরু করে অভিনেতা, অভিনেত্রী, পরিচালকরা কেউই মেনে নিতে পারছেন না অভিনেতার মৃত্যু। গৌতম ঘোষ পরিচালিত হিন্দি ছবি ‘যাত্রা’য় অভিনয় করেছিলেন নানা পাটেকর। অভিনেতার প্রয়াণে শোকবিহ্বল পরিচালক।
এদিন গৌতম ঘোষ জানান, তাঁদের একসঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল। নয়ের দশক থেকে দুজনের পরিচয়। দেখা হলেই একসঙ্গে কাজ করার কথা হতো। কিন্তু সেই কাজ আর করা হল না। বদমেজাজি বলে পরিচিত হলেও মনের দিক থেকে খুব ভালো মানুষ ছিলেন। একবার টেকনিশিয়ানদের জন্য নিজের হাতে ব্রেকফাস্ট তৈরি করে খাইয়েছিলেন। যেভাবে চরিত্র তাঁর কাছে চাওয়া হতো, সেইভাবেই তিনি ফুটিয়ে তুলতেন। ভাষার সীমার বাইরে গিয়ে যে ভাবে নানা চরিত্রকে নিজের করে নিতে পারত, সেটা তাঁর অভিনয় প্রতিভারই প্রমাণ।
প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন অভিনেতা অক্ষয় কুমার৷ ‘ওয়েলকাম’ ও ‘হাউসফুল 5’-এ কাজ করার স্মৃতিও তুলে ধরে লেখেন, নানাজির আকস্মিক প্রয়াণের খবরে দুঃখিত৷ তিনি ছিলেন বিরল অভিনেতাদের একজন, যাঁকে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য কখনোই অতিরিক্ত কিছু করতে হতো না। তাঁর কণ্ঠস্বরের তীব্রতা মানুষকে টেনে রাখত। প্রতিটি অভিনয়ে সেই সততা-সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ অনন্য। তাঁর সঙ্গে কাজ করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন অক্ষয়। নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ রবি কিষাণ। তিনি নানা পাটেকরকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী হিসেবে অভিহিত করেন।
নানা পাটেকরের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেন প্রবীণ অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, নানার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। তিনি ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তীর অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি বহু মানুষকে সাহায্য করতেন। তাঁদের বন্ধুত্ব কেবল সিনেমার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; সিনেমার বাইরেও আমাদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ভালো। অভিনেতার মৃত্যুতে কঙ্গনা রানাওয়াত, রীতেশ দেশমুখ, রবি কিষণ, প্রকাশ রাজ শোকপ্রকাশ করেছেন। সমাজমাধ্যমে শোকবার্তা রাম গোপাল বর্মা, সুনীল শেট্টী, রবিনা ট্যান্ডন, উর্মিলা মাতণ্ডকর-সহ অনেকেই।
প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ অভিনয় জীবনে নানা পাটেকর হিন্দি ও মারাঠি সিনেমায় নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ। এরপর ‘পরিন্দা’, ‘প্রহার’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘তিরঙ্গা’, ‘খামোশি’, ‘আব তক ছাপ্পন’, ‘অঙ্কুশ’, ‘তৃষাগ্নি’।




