HomeScrollবলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক সুইট প্রাইভেট লিমিটেডের FSSAI লাইসেন্স পুনর্বহাল, খুব...

বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক সুইট প্রাইভেট লিমিটেডের FSSAI লাইসেন্স পুনর্বহাল, খুব তাড়াতাড়ি কালীঘাটে নতুন শাখা…

মিষ্টি প্রেমীদের জন্য সুখবর শোনাল বলরাম মল্লিক রাধারমণ মল্লিক

কলকাতা: মিষ্টি প্রেমীদের জন্য সুখবর। বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক সুইট প্রাইভেট লিমিটেডের FSSAI লাইসেন্স পুনর্বহাল, এবং খুব তাড়াতাড়ি কালীঘাটে নতুন শাখার ঘোষণা করতে চলেছে এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে নুন শাখার ঘোষণা করেন অধিকর্তা ঋষভ মল্লিক। এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক সুইট প্রাইভেট লিমিটেড, গৌতম মল্লিক একমাত্র স্বত্বাধিকারী ও অধিকর্তা, বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক সুইট প্রাইভেট লিমিটেড, লোপামুদ্রা মল্লিক-অধিকর্তা বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক সুইট প্রাইভেট লিমিটেড।

এবার থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্যনিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক বিধি মেনে চলার সমস্ত পদক্ষেপ সম্পন্ন করার পর বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক সুইট প্রাইভেট লিমিটেড তাদের কারখানার লাইসেন্স পুনর্বহালের জন্য ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)-এর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি কলকাতায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংস্থার একমাত্র স্বত্বাধিকারী ও অধিকর্তা গৌতম মল্লিক এবং অধিকর্তা ঋষভ মল্লিক লাইসেন্স পুনর্বহাল এবং বি.এল. সাহা রোডের কারখানায় গৃহীত সংশোধনমূলক পদক্ষেপ সম্পর্কে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। এর পাশাপাশি সংস্থার পক্ষ থেকে কালীঘাটে একটি নতুন শাখা খোলার ঘোষণাও করা হয়। বি.এল. সাহা রোডের কারখানায় লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষের উত্থাপিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয়তাগুলি পূরণের লক্ষ্যে সংস্থার পক্ষ থেকে একাধিক সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে—
কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টাইফয়েড টিকাকরণ:, খাদ্য প্রস্তুতি ও খাদ্য পরিচালনার কাজে যুক্ত কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় টাইফয়েড টিকাকরণ সম্পন্ন করা হয়েছে। খাদ্য প্রস্তুতির পদ্ধতিতে উন্নতি পরিদর্শনের সময় নির্ধারিত উৎপাদন এলাকার বাইরে একটি বস্তার উপর আলু ছাড়ানোর কাজ চলছিল এবং পরে সেই আলু পরিষ্কার জলে রাখা ও ধোয়া হয়। সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সেই সময় কোনও সবজি রান্নার প্রস্তুতি চলছিল না, যদিও পর্যবেক্ষণে তার বিপরীত উল্লেখ করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে খাদ্য প্রস্তুতি ও পরিচালনার পদ্ধতি আরও সুসংহত করা হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: খোলা বর্জ্যপাত্রের পরিবর্তে নির্দিষ্ট নীল রঙের শুকনো বর্জ্যের পাত্র এবং সবুজ রঙের ভেজা বর্জ্যের পাত্র বসানো হয়েছে। এর ফলে বর্জ্য পৃথকীকরণ ও পরিচ্ছন্নতা আরও উন্নত হয়েছে।

ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও সুরক্ষা সরঞ্জাম: খাদ্য প্রস্তুতি ও পরিচালনার কাজে যুক্ত কর্মীদের জন্য অ্যাপ্রন, দস্তানা ও মাথা ঢাকার উপকরণ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তারিখ-চিহ্ন ও খাদ্যের উৎস-অনুসরণ ব্যবস্থা: প্রস্তুত ও আংশিক প্রস্তুত খাদ্যসামগ্রীর উপর তারিখ-চিহ্ন ব্যবহারের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে খাদ্যের সংরক্ষণ, পর্যবেক্ষণ এবং উৎস-অনুসরণ আরও কার্যকর হবে।
পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর সঙ্গে যথাযথ নথিপত্র, প্রতিবেদন এবং নির্দিষ্ট সময়সূচিও রাখা হচ্ছে। খাদ্য সংরক্ষণ ও পরিচালনা: উপকরণ ও খাদ্যসামগ্রী নিরাপদে সংরক্ষণ ও পরিচালনার জন্য ঢাকনাযুক্ত ক্রেট এবং খাদ্যোপযোগী পাত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।পরিকাঠামোগত উন্নয়ন: কারখানার পরিকাঠামোর সংস্কার ও উন্নয়নের পাশাপাশি টাইলস বসানো, চিমনি ও ডাক্টিং ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় মেরামতি ও উন্নয়ন করা হয়েছে। এর ফলে পরিচ্ছন্নতা ও উৎপাদন পরিবেশ আরও উন্নত হয়েছে।

সংস্থার একমাত্র স্বত্বাধিকারী ও অধিকর্তা গৌতম মল্লিক বলেন, “বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিকের কাছে খাদ্যনিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং গুণমান বরাবরই আমাদের কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উত্থাপিত পর্যবেক্ষণের পর আমরা প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি এবং আমাদের পরিকাঠামো ও কার্যপদ্ধতিকে আরও শক্তিশালী করেছি। FSSAI লাইসেন্স পুনর্বহাল এবং কারখানার কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়ে আমরা আনন্দিত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গ্রাহকেরা আমাদের ব্র্যান্ডের উপর যে আস্থা রেখেছেন, আমরা তার যথাযথ মর্যাদা দিতে চাই এবং সর্বোচ্চ মানের গুণমান, পরিচ্ছন্নতা ও খাদ্যনিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

সংস্থার পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপটি শুধুমাত্র বি.এল. সাহা রোডের কারখানা চত্বরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল এবং তা টালিগঞ্জের শাখা বা অন্য কোনও শাখার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল না। সংস্থার প্রতিটি শাখার নিজস্ব FSSAI অনুমোদন রয়েছে এবং প্রযোজ্য খাদ্যনিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক বিধি মেনে সেগুলি স্বাধীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের আওতায় টালিগঞ্জের শাখা স্থগিত করা হয়নি, বলেও ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে পুনরায় জানানো হয়।

সংস্থার অধিকর্তা ঋষভ মল্লিক বলেন, “আমাদের FSSAI লাইসেন্স পুনর্বহালের অনুমোদন পাওয়া সংস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। আমরা আমাদের কার্যপ্রণালী আরও শক্তিশালী করা, উৎপাদন ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা উন্নত করা এবং সমগ্র কারখানায় আরও বেশি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যাপকভাবে কাজ করেছি। গ্রাহক এবং বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখাতেও আমরা বিশ্বাসী। আগামী দিনে আমাদের লক্ষ্য হবে সমস্ত কার্যক্রমে খাদ্যনিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং গুণমানের নির্ধারিত মান ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখা।”

এদিকে কলকাতায় নিজেদের উপস্থিতি আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সংস্থার পক্ষ থেকে কালীঘাটে নতুন শাখা খোলার ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন এই শাখার মাধ্যমে শহরে ব্র্যান্ডের পরিসর আরও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এবং সংস্থার অন্যান্য খাদ্যসম্ভারও সেখানে পাওয়া যাবে।

১৪০ বছরেরও বেশি সময়ের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক। কলকাতার সমৃদ্ধ খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে নিবিড়ভাবে যুক্ত। সংস্থার পক্ষ থেকে পুনরায় জানানো হয়েছে যে গ্রাহকের আস্থা, খাদ্যনিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং গুণমানই তাদের কার্যক্রমের মূল ভিত্তি। উৎপাদন পদ্ধতিকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি কলকাতা জুড়ে নিজেদের উপস্থিতি সম্প্রসারণের কাজও অব্যাহত থাকবে।
বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিকের ঐতিহ্যের সূচনা ভবানীপুর থেকে। বর্তমান স্বত্বাধিকারীর পিতামহ গণেশচন্দ্র মল্লিক এই ব্যবসার প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে তাঁর ভাই বলরাম মল্লিক ব্যবসায় যোগ দেন এবং এরপর রাধারমণ মল্লিক পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত হন। অংশীদারিত্বে পরিবর্তনের পর রাধারমণ মল্লিক একক স্বত্বাধিকারী হন।
১৯৭৭ সালে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র প্রদীপ মল্লিক ব্যবসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে গৌতম মল্লিক পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসায় যোগ দেন। স্নাতক হওয়ার পর ১৯৯৩ সালে তিনি ব্যবসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৫ সালে তাঁর ভাইপো পড়াশোনা শেষ করে ব্যবসায় যোগ দেন।

পরবর্তীকালে গৌতম মল্লিক স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন এবং ২০০৭ সালে নিউ আলিপুরে একটি দোকান শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসা কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে সংস্থার আটটি শাখা রয়েছে এবং কলকাতার সমৃদ্ধ খাদ্যঐতিহ্যের সঙ্গে তাদের দীর্ঘ সম্পর্ক অব্যাহত রয়েছে।
বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক সুইট প্রাইভেট লিমিটেডের শাখাসমূহ নিউ আলিপুর, সন্তোষপুর, বেহালা ম্যান্টন, ঠাকুরপুকুর, টালিগঞ্জ, যাদবপুর, মুকুন্দপুর এবং চিনার পার্ক।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments