ওয়েব ডেস্কঃ অমাবস্যার নিকষ কালো অন্ধকারে কিছুই চোখে পড়ে না। দূরে কুয়াশায় অদৃশ্য বিস্তৃত জঙ্গল। হঠাৎই রাতের অন্ধকারে নদীর পাড় থেকে ভেসে আসে ‘জয় মা কালী’ জয় ধ্বনি। আচমকা ‘হল্লা হো…হল্লা হো’ ধ্বনি ভেসে আসতেই কেঁপে ওঠে বুক। কারণ ডাকাত দল কালীপুজো সেরে গ্রামের পথে পা বাড়িয়েছে। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ির তিস্তাপাড়ের বৈকুন্ঠপুর জঙ্গল। ঘন অরন্য, জলপথ এই অঞ্চরের সঙ্গে জুড়িয়ে রয়েছে বহু পুরনো কাহিনী। গা ছম ছমে কাহিনীর অন্যতম আকর্ষণ ভবানী পাঠক, কালী আরাধনা এবং দেবী চৌধুরানী।
জলপাইগুড়ির বাসুসুবা এলাকার বাসিন্দা সুপেনচন্দ্র রায় ছেলেবেলায় দাদুর মুখে শুনেছিলেন বৈকুন্ঠপুর জঙ্গলে ডাকাতদের কালীপুজোর গল্প।কথিত আছে, নিশিরাতে অভিযানে বের হওয়ার আগে জঙ্গলের বিভিন্ন জায়গায় মা কালীর পুজো করতেন ডাকাতেরা।গ্রামাঞ্চলে দেবী পরিচিত ছিলেন ‘কালীঠাকুরানী’ নামে। বৈকুন্ঠপুরের জঙ্গলে কালী আরাধনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেবী চৌধুরানীর নাম।
সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসে তিনি অন্যরূপে তবে ব্রিটিশ লেখক ডব্লিউ ডব্লিউ হন্টারের ‘এ স্ট্যাটিসটিক্যাল অ্যাকাউন্ট অব বেঙ্গল’-গ্রন্থে তিনি নিছকই দস্যু রানী। গ্রন্থের তথ্য অনুযায়ী, ডাকাত সর্দার ভবানী পাঠক ছিলেন বিহারের ভোজপুরের বাসিন্দা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে তিনি ও তাঁর শিষ্যা দেবী চৌধুরানীর দল বাংলায় জলপথে ডাকাতি করতেন। তিস্তাপাড়ের বোদাগঞ্জ থেকে বাকালী অঞ্চল জুড়ে রয়েছে একাধিক কালীর থান ও দেবী চৌধুরানীর মিথ। সময়ের সঙ্গে জঙ্গলের পরিবেশ বদলালেও ‘জয় মা কালী’ ধ্বনি, ডাকাত দলের গল্প এবং দেবী চৌধুরানীর নামকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ আজও অটুট।




