Homeলাইফস্টাইলপুজোইতিহাস বিজড়িত লাকুর্ডির দুর্লভা কালীমন্দির

ইতিহাস বিজড়িত লাকুর্ডির দুর্লভা কালীমন্দির

শিয়ালকে দেওয়া হয় ‘শিবাভোগ’।

ওয়েব ডেস্কঃ অমাবস্যায় পূর্ণিমার চাঁদ দেখানোর কাহিনী, মায়ের পুজোর পর শিয়ালকে ভোগ নিবেদন, পঞ্চমুন্ডির আসন আর সাধক গোকুলানন্দ ব্রহ্মচারীর ইতিহাস। পূর্ব বর্ধমানের লাকুর্ডিতে প্রাচীন কালীমন্দিরে মিশে রয়েছে এই সমস্ত কাহিনী। মায়ের মন্দিরের নাম দুর্লভা কালীমন্দির। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন এই মন্দির ঘিরে আজও স্থানীয় মানুষের মধ্যে রয়েছে গভীর ধর্মীয় বিশ্বাস। তবে সব কাহিনীর বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায় না।

পুজোর পর শিয়ালকে ভোগ নিবেদন করার প্রথা রয়েছে এখানে। এই বিশেষ ভোগের নাম ‘শিবাভোগ’। বাংলার শাক্ত উপাসনা ও লেকবিশ্বাসে শিয়ালের প্রতীকি উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। অন্যদিকে দুর্লভা কালীমন্দিরের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সাধক গোকুলানন্দ ব্রহ্মচারীর নাম। তিনি সাধনার উদ্দেশ্যে ঘুরতে ঘুরতে লাকুর্ডির জঙ্গলঘেরা এলাকায় এসে তিনি দেবীর আরাধনায় মগ্ন হন। কথিত আছে, স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি দেবীর পুজো শুরু করেন।

পথপশুদের সুরক্ষায় সচেতনতা প্রচার, উদ্যোগ পশ্চিম পুটিয়ারীতে

মন্দির ঘিরে সবচেয়ে চমকপ্রদ জনশ্রুতিগুলির একটি হল অমাবস্যার রাতে পূর্ণিমার চাঁদ দেখানোর কাহিনী।বর্ধমানের মহারাজা বিজয়চাঁদ মহতাব একবার শিকারে বেরিয়ে লাকুর্ডির জঙ্গলে সাধক গোকুলানন্দ ব্রহ্মচারীর দেখা পান। কথিত আছে, ঘোর অমাবস্যায় সাধক তাঁকে পূর্ণিমার চাঁদ দেখিয়েছিলেন। মহারাজা তাঁর সাধনায় মুগ্ধ হন এবং মন্দির নির্মাণের জন্য জমি দান করেন। এখানে শ্বেতপাথরের দেবীমূর্তি পুজো করা হয়। পাশাপাশি পঞ্চমুণ্ডির আসন, সাধকের সাধনা এবং তাঁর সমাধিকে ঘিরেও রয়েছে নানা কাহিনী।সব মিলিয়ে, লাকুর্ডির দুর্লভা কালীমন্দির শধুমাত্র ধর্মীয় উপাসনাস্থল নয়; এটি বাংলার শাক্ত ঐতিহ্য, স্থানীয় লোকসংস্কৃতি এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা বিশ্বাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments