কণাদ দাশগুপ্ত, কলকাতা: নির্বাচনের ফল শুধু আসনসংখ্যার হিসাব নয়, কখনও তা রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসেরও পরীক্ষা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা কেন্দ্র বারাণসী এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সদর দফতর নাগপুরে বিধান পরিষদের স্নাতক কেন্দ্রের নির্বাচনে বিজেপির পরাজয় তাই তাৎপর্যপূর্ণ। বারাণসীতে সমাজবাদী পার্টি এবং নাগপুরে কংগ্রেসের জয় প্রশ্ন তুলেছে, পরিচিত রাজনৈতিক দুর্গেও কি ভোটের সমীকরণ বদলাচ্ছে? তবে দু’টি কেন্দ্রের ফলকে গোটা দেশের জনমতের প্রতিফলন বলে ধরে নেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়।
বিধান পরিষদ রাজ্য আইনসভার উচ্চকক্ষ। সংসদের রাজ্যসভার মতোই, এটি রাজ্যের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। বর্তমানে ছয়টি রাজ্যে বিধান পরিষদ রয়েছে। এর সদস্যদের সবাই সাধারণ মানুষের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। বিধায়ক, স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থার প্রতিনিধি, নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন স্নাতক ও শিক্ষক ভোটারদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পাশাপাশি রাজ্যপালের মনোনীত সদস্যরাও পরিষদের অংশ।
স্নাতক কেন্দ্রের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করে ভোটার তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিরা। ফলে এই নির্বাচনের ফল সংশ্লিষ্ট নির্বাচকমণ্ডলীর মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়, বৃহত্তর ভোটারসমাজের নয়।
তবু বারাণসী ও নাগপুরের ফল রাজনৈতিক দলগুলির কাছে আত্মসমীক্ষার উপলক্ষ। শিক্ষিত ভোটারদের প্রত্যাশা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং স্থানীয় সমস্যার প্রতি মনোযোগ—সবই নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও তথ্য প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
আই-প্যাক- মমতা মামলায় সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শেষ, রায়দান স্থগিত রাখল শীর্ষ আদালত
গণতন্ত্রের শিক্ষা স্পষ্ট। কোনও রাজনৈতিক দুর্গই চিরস্থায়ী নয়। কিন্তু দুটি আসনের ফল দিয়ে গোটা দেশের রাজনৈতিক হাওয়ার চূড়ান্ত বিচারও করা যায় না।
বারাণসীতে সমাজবাদী পার্টির ২০,০৩২ ভোটের ব্যবধানে জয় এবং নাগপুরে কংগ্রেসের জয় বিজেপির কাছে দুটি পৃথক রাজনৈতিক বার্তা। একদিকে, শিক্ষিত ভোটারদের মধ্যে বিরোধীদের সংগঠন ও স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতার গুরুত্ব স্পষ্ট; অন্যদিকে, পরিচিত রাজনৈতিক প্রভাবও নির্বাচনী সাফল্য নিশ্চিত করতে পারে না। অবশ্য এই ফলকে দেশজুড়ে বিজেপি-বিরোধী জনমতের প্রতিফলন বলা যাবে না। কিন্তু ২০২৭-এর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বারাণসীর ফল অখিলেশ যাদবের প্রচারে বাড়তি অস্ত্র হয়ে উঠল।
দুর্গের নাম যত বড়ই হোক, ভোটের বাক্সে তার প্রভাব নতুন করে প্রমাণ করতে হয়—বারাণসী ও নাগপুরের ফল অন্তত সেই প্রশ্নটাই সামনে আনল।




