HomeBig Breakingপুরভোটের আগে দলবদলুদের টিকিট নিয়ে জল্পনা

পুরভোটের আগে দলবদলুদের টিকিট নিয়ে জল্পনা

কণাদ দাশগুপ্ত

 

রাজনীতিতে জামা বদলানোর কায়দাটি নতুন নয়। পুরনো দলের পতাকা নামিয়ে নতুন দলের পতাকা হাতে নিলেই যদি অতীতের সমস্ত হিসাব মুছে যেত, তা হলে ইতিহাস লেখার প্রয়োজনই পড়ত না। কিন্তু রাজনীতির স্মৃতি বড় বিচিত্র—দল বদলায়, পতাকার রং বদলায়, স্লোগান বদলায়; বদলায় না সব সময় রাজনৈতিক সংস্কৃতি। কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটের আগে সেই পুরনো প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরদের বিজেপির টিকিট দেওয়ার জল্পনার আবহে তাঁর বার্তা, কেবল জামা বদল করলেই বিজেপির প্রার্থী হওয়া যায় না।

শুক্রবার সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটের প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসলের উপস্থিতিতে প্রার্থী নির্বাচন ও সাংগঠনিক রণকৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে তৃণমূলের প্রাক্তন ৪৪ জন কাউন্সিলরকে বিজেপি প্রার্থী করতে পারে বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। তাঁদের কয়েক জনের বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতি, তোলাবাজি ও অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগের সত্যতা অবশ্য বিচারসাপেক্ষ; কিন্তু রাজনৈতিক স্মৃতির আদালতে প্রশ্নগুলি থেকেই যায়।

শমীকের বক্তব্য, বিজেপি অন্য দলের দয়ায় নয়, মানুষের সমর্থনে ক্ষমতায় এসেছে। তাঁর এই মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য স্পষ্ট। যে দল নিজেদের পরিবর্তনের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরে, তাদের কাছে প্রার্থী বাছাই নিছক জেতার অঙ্ক নয়, বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষাও। কারণ, অন্য দলের নেতাদের আশ্রয় দিয়ে নির্বাচনী শক্তি বাড়ানো সহজ হতে পারে; কিন্তু তাতে নিজের রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য কতটা অক্ষুণ্ণ থাকে, সেই প্রশ্ন এড়ানো কঠিন।

তবে প্রাক্তন তৃণমূল নেতাদের জন্য বিজেপির দরজা পুরোপুরি বন্ধ কি না, তার স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি। শেষ পর্যন্ত প্রার্থী তালিকাই জানাবে, আদর্শের কড়াকড়ি কতটা আর ভোটের অঙ্ক কতটা। আপাতত বার্তা একটাই—জামা বদলানো সহজ, রাজনৈতিক পরিচয়ের দায় ঝেড়ে ফেলা ততটা নয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments