ওয়েব ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার দু’মাসের মধ্যে প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা বহরমপুরের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠানের জমি পাওয়ার পথ খুলে দিল গুজরাত সরকার। গুজরাতের ভদোদরায় পুরসভার অধীন ৯৭৮ বর্গমিটারের একটি বিতর্কিত জমি তাঁকে বরাদ্দ করার অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার। জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি ও প্রশাসনিক টানাপড়েন চলছে। ২০২৪ সালে জমি দখলের অভিযোগে পাঠানকে নোটিসও দিয়েছিল ভদোদরা পুরসভা।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুজরাত সরকারের ১৩ অগস্টের নির্দেশ ২৯ অগস্ট ভদোদরা পুরসভার কাছে পৌঁছয়। এর দু’দিন পরে, ৩১ অগস্ট, জমি বরাদ্দের দাবি খারিজ হওয়ার বিরুদ্ধে গুজরাত হাই কোর্টে করা আবেদন প্রত্যাহার করেন পাঠান। পুরসভার ল্যান্ড এস্টেট দফতর ইতিমধ্যেই জমি বরাদ্দের প্রস্তাব স্থায়ী কমিটির আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে পুরসভার সাধারণ বোর্ডের অনুমোদন-সহ নির্ধারিত প্রক্রিয়া এখনও বাকি।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, জমির ৫০০ বর্গমিটার পাঠানকে আবাসিক ব্যবহারের জন্য উপহার হিসেবে দেওয়া হবে। বাকি ৪৭৮ বর্গমিটার জমি ১৭ মার্চ ২০২৬-এ নির্ধারিত মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৫৫ শতাংশ দামে বরাদ্দ করার প্রস্তাব রয়েছে। বিনিময়ে গুজরাত সরকারের রাজস্ব দফতর সমমূল্যের জমি ভদোদরা পুরসভাকে দেবে। ভবিষ্যতে অন্য কোনও ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তকে নজির হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না বলেও নির্দেশে উল্লেখ রয়েছে।
তান্ডালজা এলাকার এই জমিটি পাঠান পরিবারের বাড়ির লাগোয়া। ২০১২ সালে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি জমিটি ৯৯ বছরের লিজে চেয়েছিলেন। তখন জমিটির মূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় ৫.৬ কোটি টাকা। কিন্তু ২০১৪ সালে গুজরাত সরকার নিলাম ছাড়া সরাসরি বরাদ্দের প্রস্তাব খারিজ করে দেয়। এরপরও জমিটি ঘিরে দখল বজায় রাখার অভিযোগ ওঠে।
চলতি বছরের জুলাইয়ে পুরসভার স্থায়ী কমিটি জমিটির বাজারমূল্য প্রতি বর্গমিটারে ২.১০ লক্ষ টাকা ধরে মোট মূল্য প্রায় ২০.৫ কোটি টাকা নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু কথিত বেআইনি দখল নিষ্পত্তি না করে জমির মূল্যায়ন ও বরাদ্দের প্রক্রিয়া এগোনো নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এখন রাজ্য সরকারের অনুমোদনের পরেও চূড়ান্ত বরাদ্দের আগে পুরসভার বাকি প্রশাসনিক পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জুনে তৃণমূলের ২০ সাংসদ দল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দেন। সেই দলত্যাগী সাংসদদের মধ্যে ছিলেন ইউসুফ পাঠানও। তবে জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের সরাসরি যোগ রয়েছে, এমন কোনও প্রমাণ প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।




