HomeScrollদুই বাংলার মিলনস্রোত ইছামতী, সম্প্রীতির আবহে দুই বাংলা

দুই বাংলার মিলনস্রোত ইছামতী, সম্প্রীতির আবহে দুই বাংলা

ওয়েব ডেস্ক: ঢাকের বোলে বিদায়ের সুর। চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে কৈলাসে ফিরে যাচ্ছেন উমা। মায়ের আগমনে কয়েকদিন আগেই আনন্দের জোয়ারে ভেসেছিল আপামর বাঙালি। আজ তাঁদের চোখেই জল। ঘরের মেয়েকে বিদায় জানানোর যন্ত্রণা অনুভব করছে বাঙালি। চোখের জলে মেয়েকে বিদায় জানাতে গিয়ে তাঁদের মুখে আমন্ত্রণের বার্তা। বিদায়বেলায় মন থেকে বলছেন আবার এসো মা।  আরও ১ বছরের অপেক্ষা। দেশভাগ মানচিত্রকে আলাদা করলেও সংস্কৃতি আর আবেগের বন্ধনকে আলাদা করতে পারে না। দশমীর বিকালে ইছামতীর বুকে দুই বাংলার প্রতিমা নিরঞ্জনের দৃশ্য নৈস্বর্গিক। মায়ের সিঁদুর মাখা মুখ, নৌকাতে দুই বাংলার মায়ের বিদায় এক আলাদা পরিবেশের সৃষ্টি করে। এই পরিবেশ দেখতে চাইলে পুজোর ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন টাকি থেকে।

ইছামতী নদীতে প্রতিমা বিসর্জন অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের এই বিসর্জন দেখতে প্রতি বছরই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিড় জমান বহু পর্যটক। সেই ভিড়ের কথা মাথায় রেখে আগাম নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখে প্রশাসন। এবার আরও জোরদার করেছে প্রশাসন। বিসর্জনের সময় যাতে কোনো অপ্রাতিকর ঘটনা না ঘটে, তারজন্য শহরের পাশাপাশি নদীর সংলগ্ন এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। তৈরি হয়েছে বাঁশের ব্যারিকেড। ভিড় সামাল দিতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নদীর পাড়ে এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোতায়েন থাকবে পুলিশ।

ভিড়ের উপর নজরদারির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। এদিন টাকির বিসর্জনস্থল-সহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেওয়া হয়। সমস্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে সীমান্ত শহর টাকি। ইছামতী নদী দশমীর দিনে হয়ে ওঠে দুই বাংলার মিলনক্ষেত্র। ভৌগলিক সীমা আলাদা হলেও দুর্গাপুজোর আবেগ সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলে, দশমীর প্রতিমা নিরঞ্জনই তার প্রমাণ। এবারের নিরাপত্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “সবরকম ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নদীর পারে সবই দেশি নৌকো। বিএসএফ, এনডিআরএফ থাকছে। বারাসতের ডিআইজি এবং ক্যাবিনেট মন্ত্রীদেরও পাঠানো হয়েছে।”

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments