HomeBig Breakingচোরবাগান সর্বজনীনে সংলগ্ন রাস্তায় জারি ১৬৩ ধারা, করা যাবেনা জমায়েত

চোরবাগান সর্বজনীনে সংলগ্ন রাস্তায় জারি ১৬৩ ধারা, করা যাবেনা জমায়েত

আহতদের দেখতে রবিবার সকালে বেসরকারি হাসপাতালে রাজ্যপাল

কলকাতা: সপ্তমীর সন্ধ্যায় শহরের বুকে ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। দুর্গাপুজোর আনন্দ মুহূর্তে বদলে গেল শোকে। চোরবাগানে সর্বজনীনের মণ্ডপে নেমে এল মৃত্যুমিছিল! পুজো দেখতে গিয়ে সেখানে প্রাণ গেল ১৯ জনের। মণ্ডপে হুড়োহুড়িতে পিষ্ট হয়ে আহত হন ২৫ জন।রবিবার সকালে সকালে চোরবাগান সর্বজনীনে সংলগ্ন রাস্তায় জারি করা হল ১৬৩ ধারা। ধারা। বউবাজার থানা এলাকার অন্তর্গত এই পুজো মণ্ডপের আশপাশের রাস্তায় কোনও জমায়েত চলবে না।

চোরবাগানের ঘটনায় শনিবার চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে মানুষের ঢল নেমেছিল। সেই সময়ই হঠাৎ বৃষ্টি নামে। তারপর একটি ঘোষণা। তাতে দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়়ি পড়ে যা বলে খবর। ভিতরে ঢোকার জন্যও ঠেলাঠেলি শুরু হয়। তাতেই মুখ থুবড়ে পড়ে যান অনেকে। অন্যরা পা দিয়ে মাড়িয়ে যান তাঁদের। এতেই ঘটে যায় ভয়ঙ্কর ঘটনা। পদপিষ্ট হয়ে মারা যান বহু মানুষ। চোরবাগান সর্বজনীনে বিপর্যয়ের ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৪ জন। তাঁদের মধ্যে ৩ জন সিসিইউ (CCU) এবং ৩ জন এইচডিইউতে (HDU) আছেন। আপাতত তাঁরা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের দেখতে সকালে ওই বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছন রাজ্যপাল। চোরবাগান দুর্ঘটনায় মৃত ও আহতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও চাকরির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্ঘটনায় নিহত-আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো পাশাপাশি ঘটনায় সঠিক তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।এই ঘটনার জেরে কড়া পদক্ষেপ নিল সরকার। চোরবাগান সংলগ্ন রাস্তায় জারি ১৬৩ ধারা। ২০ তারিখ পর্যন্ত জারি থাকবে ১৬৩ ধারা।

চোরবাগানে দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্যের‌ও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।‌ রাজ্যের তরফে নিহতদের পরিবার পিছু ২৫ লক্ষ টাকা ও পরিবারের এক সদস্যকে গ্রুপ- ডি পদে চাকরি দেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসার খরচ বহনের পাশাপাশি ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহযোগিতা করবে সরকার।শুভেন্দু জানান, ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। দুর্ঘটনার তদন্তের জন্য সিট (বিশেষ অনুসন্ধান দল) গঠন করা হবে। বিচারপতির নেতৃত্বে হবে তদন্ত। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এসটিএফ, সিআইডি-সহ বেশ কয়েকটি সংস্থার আধিকারিকেদের নিয়ে সিট গঠন করা হবে। যার নেতৃত্বে থাকবেন এক জন বিচারপতি। তার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ঘুগেকে চিঠি লিখবেন‌ তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি বলেছেন,“আগামীকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের যাওয়ার কথা ছিল বেশ কিছু জায়গায়। বেলুড় মঠে যাওয়ার কথা ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। সব ধরণের অনুষ্ঠান স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। আপাতত কোনও রকম আনন্দ-উৎসব নয়। মায়ের পুজোকে বন্ধ করা যায় না কিন্তু সরকার কোনও রকম উৎসবে থাকবে না। পুজো কমিটি সচেতন হলে দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments