ওয়েব ডেস্ক: পরিবারকে নিয়ে কৈলাসে মা ফিরে যাওয়র পর শুরু হয় বিজয়া। বড়দের পায়ে প্রণাম করে ছোটদের আশীর্বাদ দিয়ে চলে মিষ্টি মুখ। বাঙালির ঘরে ঘরে এখন চলছে বিজয়ার পালা। এই বাংলাতেই বিভিন্ন জায়গায় আবার বিভিন্ন রকম নিয়ম পালন করা হয়। উত্তরবঙ্গে দশমীর পরের দিন যেমন ভান্ডানী পুজোর আয়োজন করা হয়, তেমন বাঁকুড়ার গ্রামে কাদা খেলায় মাতেন মানুষ। বাঁকুড়ার জয়পুরের বৈতলে হয় ঝগড়ভঞ্জনী মায়ের পুজো। এই পুজোতে কাদা খেলা হয়।
মল্লরাজাদের জমানায় বলির রক্তের খেলা হতো। আজ সেই রুপান্তরিত হয়েছে কাদাখেলায়। এই উৎসব ঘিরে বিজয়ার দিন ঝগড়ভঞ্জনী মন্দির প্রাঙ্গণে হাজার হাজার পুরুষ ও মহিলারা কাদাখেলায় মেতে ওঠেন। প্রতিবছরের মতো এই বছরও বিজয়ার দিন ৭টি পুকুর থেকে জল ও কাদা তুলে মন্দির প্রাঙ্গণে রাস্তায় বাঁধ দিয়ে জলাশয় বানিয়ে খেলা হয়। শুধু বৈতলই নয়, পুণ্য অর্জনের জন্য আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষ এই কাদাখেলায় অংশ নেন।
বহু বছর ধরেই এই রীতি চলে আসছে বাঁকুড়ার জয়পুরের বৈতলে ঝগড়ভঞ্জনী মায়ের পুজোয়। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, এই কাদা গায়ে লাগলে রোগ মুক্তি ঘটে। স্থানীয়রা জানান, অনেকেই এই কাদা জল বাড়িতে নিয়ে গিয়ে অসুস্থ মানুষের গায়ে লাগান। তাতেই তারা অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠেন।। এই বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এই মন্দিরের এক সেবায়েত জানান, মল্লরাজার প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরে মন্দিরে একসময় প্রচুর পাঁঠা বলি হত। বলির রক্তে মন্দির প্রাঙ্গণ কার্যত ভেসে যেত। এখন বলি তেমন হয় না।এবছরও প্রচুর মানুষ কাদাখেলায় অংশ নেন।
দেবীর কৃপা পাওয়ার জন্য কাদাজলে স্নান করতে বাইরে থেকেও প্রচুর মানুষ আসেন জয়পুরে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ৪০০ বছর আগে মল্লরাজাদের আমলে প্রতিষ্ঠিত দেবী দুর্গারূপী ঝগড়ভঞ্জনী মাতা খুবই জাগ্রত। এই দেবী ঝগড়া প্রশমিত করেন এবং সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেন ভক্তদের। ৮ থেকে ৮০ সবাই এই কাদা খেলায় অংশগ্রহণ করেন।




