ওয়েব ডেস্ক: বাংলা দখলের পর এ বার দিল্লি থেকে বিরোধীদের সরানোর ডাক। ধর্মতলার সভামঞ্চ থেকে কার্যত সেই রাজনৈতিক বার্তাই দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। তাঁর নিশানায় একদিকে বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। নিতিনের কথায়, “বাংলা মমতামুক্ত হয়েছে। রাজ্যে হেরে দিল্লিতে গিয়ে কান্নাকাটি করছেন। বাংলা যেমন মমতামুক্ত হয়েছে, তেমন দিল্লিকেও রাহুলমুক্ত করতে হবে।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের সাফল্যকে সামনে রেখে জাতীয় রাজনীতিতেও বিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে চাইছে বিজেপি।
সোমবার ধর্মতলার সভা থেকে আরও আক্রমণাত্মক সুর শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গলায়। SIR প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “SIR-এর অর্থ হল, অনুপ্রবেশকারী ভাড়াও।” ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম হাতিয়ার করে অনুপ্রবেশের প্রশ্নে সরব হন তিনি। একই সঙ্গে তৃণমূল, বাম, কংগ্রেস এবং তথাকথিত ‘দিমাগি নকশাল’ ও ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান দেওয়া শক্তির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
ধর্মতলার এই সভা নিছক দলীয় কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকল না। বরং বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলকে জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করল বিজেপি। নিতিন নবীনের বক্তব্যে রাহুল গান্ধীকে নিশানা এবং শুভেন্দুর ভাষণে বিরোধী শক্তিগুলিকে আক্রমণ—দুই মিলিয়ে আগামী দিনের রাজনৈতিক সংঘাতের সুর আরও স্পষ্ট হল। বিজেপির বার্তা, বাংলার পরিবর্তনকে পুঁজি করেই জাতীয় স্তরেও নিজেদের রাজনৈতিক জমি আরও শক্ত করতে চায় তারা।




