ওয়েব ডেস্ক: ধর্ম তাঁদের হিন্দু নয়, কিন্তু পাঁচালি তাঁদের মুখস্ত। তাদের হাতেই তৈরি হয় লক্ষ্মীর সরা। কুমোরটুলিতে লক্ষ্মীর সরা বিক্রি করেন মহম্মদ ইকবাল, সেলিম রহমান, আবু হোসেনরা। এদের কেউ কেউ থাকেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, কেউ থাকেন উত্তর ২৪ পরগনায়। নিজের হাতে লক্ষ্মীর সরা এঁকে তারা বিক্রি করেন কলকাতায় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে। কেউ লক্ষ্মীর সরা কিনতে এলে পাঁচালি শোনান।
এই সরায় ফুটে ওঠে অপূর্ব শিল্পকর্ম। তুলির টানে ফুটে ওঠে মুন্সিয়ানা। এই এক একটি সোনার দাম ৩০০ থেকে ১২০০ টাকা। ইকবালদের হাতে আঁকা সরাই পুজো পায় বহু বাড়িতে। অনেকে জানান, এত সুন্দর সরা, চোখ ফেরানো দায়। তাই বাড়ির ছাঁচের লক্ষ্মী ঠাকুর কিনতে এসে সরা দেখে অনেকে কিনে নেন। কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা জানান, মূলত পূর্ববঙ্গের মানুষরা লক্ষ্মীর সরায় পুজো হয়। সরায় লক্ষ্মীর দু’পাশে তাঁর দুই সহচরী জয়া ও বিজয়া থাকেন। তার সঙ্গে থাকে ধানের শিস।
সরার আলাদা চাহিদা আছে। বাংলার লোকসংস্কৃতির ইতিহাসে সরার গুরুত্ব অসীম। লক্ষ্মীপুজোয় লক্ষ্মীসরা, ঢাকনাসরা, আমসরা ও ফুলসরার মতো বিভিন্ন ধরনের সরা ব্যবহৃত হয়। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে সরার নকশা ও শিল্পরীতিতেও রয়েছে বৈচিত্র্য।




