আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফ্রান্সের পর এ বার ইতালিতেও বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন ইতালির বাসিন্দারা। একাধিক শহরে বিক্ষোভ শুরু হলেও মিলানে পরিস্থিতি হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং দোকানে লুটপাটের ঘটনায় নিরাপত্তা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালির সরকার। মিলানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ৫০০ সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
মিলানের পাশাপাশি বোলোনিয়া, ব্রেসিয়া, বেরগামো এবং তুরিনেও বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন বলে অভিযোগ। সংঘর্ষে কয়েক জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। বিভিন্ন দোকানে লুটপাটের পাশাপাশি সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। একাধিক শপিংমল থেকে নামী ব্র্যান্ডের সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়। আগামী দিনগুলিতে আরও বড় বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছেন আন্দোলনকারীরা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার। বিক্ষোভের নামে হিংসা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ভাঙচুর ও লুটপাটে নাবালকদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের বাবা-মায়ের উপর আর্থিক দায় চাপানোর পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে। এ দিকে, নিরাপত্তার কারণে বোলোনিয়ার একটি রেলস্টেশন সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার মিলানে অশান্তির ঘটনায় ২৭১ জনকে আটক করা হয়েছে এবং ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে ২৩ জন নাবালক এবং ১৩ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তুরিন-সহ অন্য এলাকাতেও আরও ২৮ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফ্রান্সেও বিক্ষোভ মোকাবিলায় নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই দেশেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটছে।




