ওয়েব ডেস্ক: দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে স্কুল পড়ুয়াদের আন্দোলনের জেরে উত্তাল ফ্রান্স। মূলত স্কুল পড়ুয়াদের আন্দোলন হলেও, তাতে সামিল হয়েছেন শ্রমিক, কৃষক, সরকারি কর্মচারি থেকে সাধারণ ব্যবসায়ী। বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, স্কুল ভবনগুলির বেহাল দশা, শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি অর্থবরাদ্দ বৃদ্ধি, নুন্যতম মজুরি বৃদ্ধি সহ একাধিক দাবীতে রাস্তায় নেমেছে পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষ।
তীব্র আন্দোলনে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া চরম অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় চাপের মুখে পড়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রোর সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুক্রবার স্কুলগুলির ছাত্র প্রতিনিধি ও ছাত্র সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ম্যাঁক্রো। ইতিমধ্যেই প্যারিস,মার্সেই, লিঙঁ সহ একাধিক শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সরকারি ভবনের পাশাপাশি বহু দোকানপাটে ভাঙচুর ও আগুন জ্বালানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, হিংসার জেরে এখনও পর্যন্ত ২,৭০০ বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট গোয়েন্দা সংস্থা ও মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর স্পষ্ট জানিয়ে দিযেছেন দেশে কোনও অবৈধ বিক্ষোভ বরদাস্ত করা হবে না। সরকারের কড়া অবস্থানের পরেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। UNEF এর মতো ফ্রান্সের প্রধান ছাত্র সংগঠনগুলি ও সাধারণ মানুষ সরকারের এই কঠোর মনোভাবকে গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ হিসেবেই দেখছেন।
শনিবারও রাজপথে বড় ধরনের গণবিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই আবহে এখন দেখার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছাত্র প্রতিনিধিদের বৈঠকে কোনও সমাধান সূত্রে মেলে কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।




