ওয়েব ডেস্কঃ কলকাতার আনাচে-কানাচে রয়েছে একাধিক কালীমন্দির। সেই সকল মন্দিরের পেছনে রয়েছে এক একটি ইতিহাস। এইরকমই উত্তর কলকাতার বিরাজমান ‘জীবন্ত কালী’র বিশাল মন্দির। তিনি শ্যামসুন্দরী নামে পরিচিত। মা কালী এখানে পূজিতা হন ছোট্ট মেয়ে রূপে। ঠিক সেই কারণেই অম্ববাচি পালিত হয় না এই মন্দিরে। এখানে বলির কোনও রীতি নেই।
মায়ের ওপর ভক্তদের বিশ্বাস অগাধ। তাঁরা মনে করেন, মা কখনো কাউকে খালি হাতে ফেরার না। ভক্তদের মনবাঞ্ছা পূরণ করেন তিনি।দেবীর রক্ষণাবেক্ষণে কাজ করেন তিন সেবায়েত। প্রতিদিন মায়ের দর্শন পেতে বহু দূর থেকে মানুষ আসেন। দুবেলা পাত পেড়ে খাওয়ানো হয় ভোগ।জনশ্রুতি, শ্যামসুন্দরীকে ঘিরে বহু অলৌকিক কাহিনী রয়েছে।
এক সেবায়েত জানান, মায়ের তৎকালীন সেবায়েত বাজারে গিয়েছিলেন বাজার করতে। সেই সময় এক ছোট্ট মেয়ে তার কাছে চাল কলা খাওয়ার আবদার করে। মেয়েটি কয়েকদিন কিছু খায়নি বলে জানায়। পুরোহিত ওই বালিকাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। কাজ করে খাওয়ারও পরামর্শ দেন। তবে মেয়েটি জানায় কাজ পায়নি বলেই সে ভিক্ষে চাইছে। এর পর চলে যা্য় ছোট্ট মেয়েটি। পুরোহিতও দেবীর পুজোর জন্য বাজার করে ফিরে এসেছিলেন মন্দিরে। দেবীর ভোগের ব্যবস্থা হয়েছিল। নিয়ম মেনে অন্ধকারেই চলছিল দেবীর আরাধনা। পুজো চলাকালীন পুরোহিত হঠাৎ লক্ষ্য করেন যে শুধু মহাদেবই শায়িত রয়েছেন। কিন্তু, তাঁর ওপর কালী নেই। প্রথমে ভ্রম মনে হলেও পরে ঘি-এর প্রদীপ বাড়িয়ে মূর্তি দেখার চেষ্টা করেন এবং একই জিনিস দেখেন। তৎক্ষণাৎ নুপুরের শব্দে সম্বিত ফেরে পুরোহিতের। কথিত আছে সে দিনই মা জানান দিয়েছিলেন নিজের অস্তিত্বের কথা।




