Homeকলকাতাদক্ষিণ কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে মায়ের আরাধনা, শ্মশানকালী পুজো

দক্ষিণ কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে মায়ের আরাধনা, শ্মশানকালী পুজো

ধর্মীয় বিশ্বাস, প্রাচীন ঐতিহ্য এবং বহু প্রচলিত লোককথা।

ওয়েব ডেস্কঃ কলকাতার ইতিহাসে এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যেগুলির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ধর্মীয় বিশ্বাস, প্রাচীন ঐতিহ্য এবং বহু প্রচলিত লোককথা। দক্ষিণ কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশান তেমনই এক ঐতিহাসিক স্থান। আদি গঙ্গার তীরে অবস্থিত এই মহাশ্মশান শুধু শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জায়গা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে শ্মশানকালী আরাধনা ও সাধন-সংস্কৃতির সঙ্গেও যুক্ত। এখানকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ হল প্রায় ১৫৬ বছরের পুরনো শ্মশানকালীর পুজো।

১৮৭০ সালে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শ্মশানকালীর পুজোর সূচনা হয়েছিল। জনশ্রুতি রয়েছে, স্থানীয় এক কাপালিক সাধক দুই ব্রাহ্মণের সাহায্যে প্রথম এই পুজো শুরু করেন। সাধক সঙ্গে করে কালীপ্রতিমা নিয়ে এসেছিলেন। প্রতিমার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল, দেবীর দুটি হাত থাকলেও মুখের বাইরে জিভ বেরিয়ে ছিল না। প্রথমবার দেবীর আরাধনা সম্পন্ন করার পর কাপালিক নিজের গন্তব্যে চলে যান। কিন্তু তাঁর শুরু করা পুজো বন্ধ হয়নি। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় মানুষ ও শ্মশানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সেই ঐতিহ্য ধরে রাখেন।বিশেষ করে ডোম সম্প্রদায়ের মানুষেরাই এই পুজোর আয়োজন ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

শ্মশান কালী দ্বিভুজা এবং তাঁর মুখমণ্ডলে রয়েছে শান্ত, স্নিগ্ধ ভাব। ধর্মীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দেবীর এই রূপের মধ্যে রয়েছে কল্যাণ ও আশীর্বাদের প্রতীকী প্রকাশ।সূত্রের খবর, ১৯২৪ সাল থেকে একটি সর্বজনীন পুজো কমিটির তত্ত্বাবধানে এই আরাধনা পরিচালিত হওয়ার কথাও বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে পাওয়া যায়। কেওড়াতলার কালীপুজোর সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দৃশ্য হল, একই সময়ে এখানে চলে দেবীর আরাধনা এবং মৃতদেহের সৎকার। পুজোর সময় শবদেহ না এলে দেবীর ভোগ নিবেদন করা হয় না।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments