ওয়েব ডেস্ক: ‘হাম দো, হামারে দো’— পরিবার পরিকল্পনার এই পরিচিত ধারণা নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তার সময় এসেছে কি না, সেই প্রশ্নই সামনে আনল সুপ্রিম কোর্ট।
দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে পঞ্চায়েত বা পুরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিধান পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি পিএস নরসিমহা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, দেশের পরিবর্তিত জনসংখ্যাগত পরিস্থিতিতে দু’দশক আগের বিধিনিষেধের প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে বিচার করা প্রয়োজন।
মহারাষ্ট্রের কাকোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সরপঞ্চ মঙ্গলা ভীমরাওয়ের মামলাকে কেন্দ্র করে এই পর্যবেক্ষণ। তৃতীয় সন্তান জন্ম নেওয়ায় মহারাষ্ট্রের পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী তাঁকে সরপঞ্চ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শীর্ষ আদালত সেই নির্দেশ খারিজ করে ২০০৩ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের পুনর্বিবেচনার জন্য বিষয়টি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ দুই সন্তান নীতির ভিত্তিতে নির্বাচনে লড়ার ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধকে বৈধতা দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা বলে মনে করছে বর্তমান বেঞ্চ।
আরও পড়ুন:
গ্রেপ্তার হোক বা আটক, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করাতেই হবে
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে দেশের মোট প্রজনন হার বা টোটাল ফার্টিলিটি রেট (টিএফআর)-এর পরিসংখ্যান। ২০০৩ সালে এই হার ছিল ৩। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১.৯-এ। জনসংখ্যার স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রয়োজন ২.১।
বিচারপতিদের আশঙ্কা, জন্মহার কমতে থাকলে ভবিষ্যতে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা বাড়বে এবং কর্মক্ষম যুব জনসংখ্যার অনুপাত কমবে। পাশাপাশি সন্তানধারণের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যে সংঘাতের প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সঙ্গে এই বিধিনিষেধের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত।




