HomeBig Breakingনেহা বোরাকে সামনে রেখে রাহুলের যুব-রাজনীতি

নেহা বোরাকে সামনে রেখে রাহুলের যুব-রাজনীতি

কংগ্রেসে কানহাইয়া- অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি নিয়ে প্রশ্ন ?

কণাদ দাশগুপ্ত

ছাত্র আন্দোলনের মঞ্চ থেকে সরাসরি জাতীয় রাজনীতির আলোয় নেহা বোরা। রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাশে নেহার উপস্থিতি এখন কংগ্রেসের নতুন রাজনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিন্তু দলের নিজস্ব ছাত্র সংগঠন, NSUI পিছনে রেখে বাম ছাত্র সংগঠন AISA-র সভানেত্রীকে এতটা গুরুত্ব দেওয়া কি নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে? উঠছে কানহাইয়া কুমারের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গও।

২৯ বছর বয়সি নেহা জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (AISA) সর্বভারতীয় সভানেত্রী। শিক্ষা ও পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদে ২৩ দিনের অনশন এবং সাম্প্রতিক নির্বাচন কমিশন-বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ তাঁকে পরিচিতি দিয়েছে। ১২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের দিকে বিরোধীদের মিছিলে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার পাশে হাঁটতে দেখা যায় তাঁকে। বিরোধী মঞ্চের সাংবাদিক বৈঠকেও বক্তব্য রাখেন তিনি।

রাহুলের কাছে নেহার গুরুত্বের রাজনৈতিক যুক্তি স্পষ্ট। কংগ্রেসের নিজস্ব সংগঠনের বাইরে থাকা ছাত্র ও তরুণ আন্দোলনকারীদের কাছে পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি করছেন তিনি। কিন্তু এর উল্টো পিঠও রয়েছে। আইসার রাজনৈতিক অবস্থানে NSUI-কে বিজেপির ছাত্র সংগঠন ABVP-র সঙ্গে একই বন্ধনীতে রাখা হয়েছে। ফলে কংগ্রেসের ছাত্র নেতৃত্বের একাংশের ক্ষোভ অস্বাভাবিক নয়। নেহাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিবাদে NSUI-এর একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের নাম পর্যন্ত বদলে দেওয়া হয়েছিল।

কানহাইয়া কুমারের ক্ষেত্রেও একসময় একই প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। ২০২১ সালে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে তিনি যুব রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন। কিন্তু জনপ্রিয় বক্তৃতা সাংগঠনিক শক্তিতে পরিণত হয়নি। সাম্প্রতিক দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও NSUI কেন্দ্রীয় প্যানেলে কোনও পদ পায়নি।

নেহার ক্ষেত্রেও তাই আসল পরীক্ষা মঞ্চের দৃশ্যমানতা নয়, সংগঠন গড়ার ক্ষমতা। রাহুল কি নতুন মুখকে জায়গা দেওয়ার পাশাপাশি নিজের দলের কর্মীদের আস্থাও ধরে রাখতে পারবেন? কংগ্রেসের যুব রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই ভারসাম্যের উপর।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments