ওয়েব ডেস্ক: বিশ্বাস শব্দটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কথায় আছে বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর। জায়গা অনুপাতে সেটি ব্যবহার হয়। আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে বিশ্বাস শব্দটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কোনও কিছুর ওপর একটি বিশ্বাস তৈরি হলে, সেটি দিনের পর দিন ধরে চলতে থাকে। এমনই বহু কারণ ও বিশ্বাস মানুষের মধ্যে রয়েছে। যা বছরের পর বছর ধরে মনের মনিকোঠায় লালিত পালিত করছেন তাঁরা। তেমনি একটি বৈকুণ্ঠপুরের রাজবাড়ি। জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির গরিমা থেকে শুরু করে প্রাচীনত্ব ও ঐতিহ্য কারও থেকে কম নয়।
এই রাজবাড়িতে এখন রাজত্ব বা রাজকীয়তা না থাকলেও ঐতিহ্য বর্তমান। জনশ্রুতি অনুযায়ী ঐতিহ্য ও আচার অনুষ্ঠান নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে উত্তরবঙ্গের এই রাজবাড়ি। এই বাড়ির ঐতিহ্যের মধ্যে অন্যতম জয় কালী। কালী প্রতিমা নিয়ে অনেক তথ্য রয়েছে। জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। বিশ্বাস রয়েছে, এই রাজবাড়ির জয় কালীর পায়ে পরানো থাকে শিকল। কিন্তু কেন?
জনশ্রুতি, কয়েকশো বছরের পুরনো সেই রহস্যময় কথা আজও ঘিরে রেখেছে বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়িকে। সময় এগিয়ে গেলেও চারপাশের ছবি বদলে গেলেও। বদলায়নি মানুষের বিশ্বাস। আজও মায়ের পায়ে জড়িয়ে রয়েছে সেই শিকল। ভক্তদের কাছে এটি শুধুই শিকল নয়, বরং ইতিহাস, ঐতিহ্য আর অলৌকিক বিশ্বাসের অদ্ভুত মেলবন্ধন। কিন্তু কি কারণে এই শিকল পড়ানো থাকে?
কথিত আছে, বহু বছর আগে এক গভীর রাতে রাজবাড়ির কালীমন্দির থেকে এক নারী অবয়ব দেখতে পাওয়া যেত। সেটি মন্দির থেকে বেরিয়ে ডাকাত কালী মন্দিরের দিকে যেত। লোক মুখে মুখে সেটি ছড়িয়ে পড়ে। তৈরি হয় কাহিনী। রাজপুরোহিত ও রাজবাড়ির প্রবীণরা আলোচনায় বসেন। তারা বিশ্বাস করতে শুরু করেন দেবী মূর্তি নিজে বেরিয়ে আসেন। তাকে আটকাতে পায়ে শিকল পরানো শুরু হয়। তবে শোনা গিয়েছে, ৩০ বছর ধরে মায়ের পায়ে আগের মতো শিকল পরানো হয় না। তবে লোহার বাঁধনের মাধ্যমে দেবী মূর্তিকে আটকে রাখার প্রথা এখনও জারি রাখা হয়েছে। নিয়ম নীতি মেনে আজও সেখানে পূজিত হয়ে আসছেন মা।




