ওয়েব ডেস্ক: কৈলাস ছেড়ে ৪ সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি আসছেন উমা। ৪দিন কাটিয়ে ফিরে যাবেন শ্বশুরঘরে। কিন্তু ঘরের মেয়ের আগমনের আনন্দে খুশির হাওয়া বঙ্গজুড়ে। কলকাতার পাশাপাশি গ্রামেও মাকে সাদরে বরণ করা হয়। কংক্রিটের জঙ্গলে যেখানে থিমের চাকচিক্য বেশি, সেখানে গ্রাম বাংলার পুজোতে সাবেকিয়ানাই মূল। গ্রাম বাংলার পুজোতে বিভিন্ন রীতিনীতি মানা হয়। সেইজন্য শহরের বাইরে গ্রামবাংলার পুজোগুলিও খুবই আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
শহর হোক বা গ্রাম-বনেদি, জমিদার, রাজবাড়ির পুজোগুলিও দেখার মতো হয়। এই এলাকায় কোনও থিম নেই, কিন্তু লুকিয়ে আছে অনেক ইতিহাস। এমনই একটি বাড়ি ঝাড়গ্রামের সেনগুপ্তদের বাড়ি। জনশ্রুতি রয়েছে, বর্গী হামলার কারণে এখানে গোপনে পুজো করা শুরু হয়েছিল। লুকিয়ে লুকিয়ে সব পুজোর আয়োজন করা হতো। ভোগ রান্নাও হতো আড়ালে। সেই কারণে দেবীকে কাঁচা ভোগ দেওয়া হতো। নবমীর দিন হতো ‘শত্রু বলি’। আজও এই প্রথা মেনে পুজো হয় সেনগুপ্ত বাড়িতে। দেবীকে কাঁচা শাক-সব্জি, চাল, ডালের সঙ্গে ভোগ হিসেবে দেওয়া হয় কাঁচা মাছও। তিনশো বছর পেরিয়ে গিয়েও এই পুজোর একই নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে। সেনগুপ্ত বাড়ির পুজো দেখতে আজ ভিড় জমান দুর দুরন্ত থেকে আসা ভক্তরা।
সূত্রের খবর, পুজো প্রথম শুরু হয়েছিল অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরে। দেশভাগের পরে সেনগুপ্ত বাড়ির বংশধররা ঝাড়গ্রামের বাছুরডোবায় চলে আসেন। সেখানেই দুর্গাপুজো শুরু করেন তাঁরা। বাড়ির কর্তা রামগতি সেনগুপ্তের বাড়ির দুর্গাপুজোর জৌলুস বেড়েছিল। যেহেতু দেবীকে বর্গী হানার জন্য রান্না করা ভোগ নিবেদন করা যায়নি। তাই কাঁচা ভোগের এক কণাও পরিবারের সদস্যরা গ্রহণ করেন না। যদিও দেবীকে প্রতিদিন ফল, খই, মুড়কি, নারকেল নাড়ুর নৈবেদ্য দেওয়া হয়। দশমীর দিনেই মায়ের বিসর্জন দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।




