কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী ছিল? কোথায় ঘটেছিল ত্রুটি, কারও গাফিলতি কি এই বিপর্যয়কে ডেকে এনেছিল? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠনের অনুমতি পেল রাজ্য সরকার। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এবার রাজ্য নিজের পছন্দমতো একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে কমিশনের দায়িত্ব দিতে পারবে।
উৎসবের আনন্দ যে ভাবে মুহূর্তে শোক ও আতঙ্কে বদলে গিয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ কারণ অনুসন্ধান এখন অত্যন্ত জরুরি। শুধু দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নয়, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তার ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা—সব দিক খতিয়ে দেখার মধ্য দিয়েই উঠে আসতে পারে বিপর্যয়ের প্রকৃত ছবি। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দায়ী করা নয়, তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণই কমিশনের কাছে প্রত্যাশিত।
প্রাথমিক ভাবে কর্মরত কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠনের আবেদন জানিয়েছিল রাজ্য। কিন্তু বিচারপতির স্বল্পতা এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকার কথা বিবেচনা করে কর্মরত বিচারপতিকে এই দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান প্রধান বিচারপতি। সেই অবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন গঠনের পথ খুলে দেওয়া হল।
কমিশন ঘটনার কারণ এবং সম্ভাব্য গাফিলতির দিকগুলি বিস্তারিত ভাবে পরীক্ষা করবে। আপাতত তদন্তের উপর সরাসরি নজরদারি করবে না হাই কোর্ট। কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়ার পরে প্রয়োজন মনে করলে আদালত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারে।
এই তদন্তের গুরুত্ব কেবল দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণে সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে যাতে উৎসবের ভিড়ে আর কোনও পরিবারকে এমন অপূরণীয় শোকের মুখে পড়তে না হয়, তার জন্যও সত্য উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।




