আগামীকাল অর্থাৎ রবিবার বাঙালির ঘরে ঘরে পূজিত হবেন মা লক্ষ্মী। আর এই বিশেষ দিনেই মহানায়কের বাড়িতে ছিল এক বিশেষ রীতি। উত্তম কুমারের বাড়ির লক্ষ্মীপূজো চালুর ইতিহাস রয়েছে প্রচুর। তার মধ্যে একটি হল মহানায়ক তার বাড়ির লক্ষ্মীপূজোয় এক নিয়ম ভেঙে ছিলেন। যা এক অনন্য ব্যতিক্রম।
জানা গিয়েছে, মহানায়ক উত্তম কুমার স্বপ্নে স্বয়ং গণেশের দেখা পেয়েছিলেন। তাই অত্যন্ত জাঁকজমকভাবেই গণেশ পুজো করতেন তিনি। ঠিক সেই রকমই স্ত্রী গৌরী দেবীর মুখের আদলে আজও ভবানীপুরের বাড়িতে মা লক্ষ্মীর আরাধনা হয়ে থাকে।
পুরান মতে মা লক্ষ্মী অত্যন্ত চঞ্চলা তাই তাঁকে ঘরে স্থায়ী করতে, শান্ত, স্থির পরিবেশের প্রয়োজন। শাস্ত্রমতে লক্ষ্মী পুজোয় শঙ্খ, কাশর, ঘন্টা বাজানো নিষিদ্ধ। কারন অতিরিক্ত শব্দ মা লক্ষ্মীর পছন্দ নয়। আর সেই নিয়মই প্রতিটি বাঙালি বাড়িতে আজও একইভাবে মেনে চলে আসা হয়েছে।
কিন্তু ব্যতিক্রম উত্তম কুমার। তিনি এখানেই নিয়মের বদল ঘটিয়ে ছিলেন। ১৯৫০ সালে শুরু হয় উত্তম কুমারের বাড়িতে লক্ষ্মীপুজো। আর ঠিক সেই বছর থেকে এই লক্ষ্মী পুজোয় ঢাক বাজানোর রেওয়াজ চালু হয়। কিন্তু আপনারা কি জানেন মহানায়ক কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?
জানা যায়, দুর্গা পুজোর পর গোটা বাংলা জুড়ে মানুষের মনে বিষাদের ছায়া নেমে আসে। সেই মানুষের মনে অবসাদ ও বিষণ্ণতা দূর করতেই লক্ষ্মী পুজোয় ঢাক বাজানোর অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মহানায়ক। তিনি বিশ্বাস করতেন, ঢাকের আওয়াজ চারপাশের মন খারাপ দূর করবে। মহানায়কের ইচ্ছে ও আবেগকে আজও সম্মান জানানো হয় তাঁর পৈত্রিক বাড়িতে।




