HomeScrollপালাবদলের পর বাংলায় সংঘের বিস্তার, পুজোর আগে দশ দিনে পাঁচ হাজার নতুন...

পালাবদলের পর বাংলায় সংঘের বিস্তার, পুজোর আগে দশ দিনে পাঁচ হাজার নতুন শাখা

রাজ্যে মোট শাখার সংখ্যা এখনই প্রকাশ করতে চাইছে না সংঘ নেতৃত্ব

কণাদ দাশগুপ্ত: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে সংগঠন বিস্তারে নতুন করে জোর দিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস। দুর্গাপুজোর আগে মাত্র ১০ দিনের বিশেষ অভিযানে বাংলায় পাঁচ হাজারেরও বেশি নতুন শাখা খোলার দাবি করেছে সংঘ পরিবার। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, এই নতুন শাখাগুলির মধ্যে এমন এলাকাও রয়েছে, যেখানে আগে সংঘের কোনও সাংগঠনিক উপস্থিতি ছিল না।

সংঘ সূত্রে খবর, ১ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর, মহালয়া পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযান চলে। আরএসএসের দক্ষিণবঙ্গ প্রান্ত সূত্রের খবর, ওই সময়ের মধ্যে পাঁচ হাজারেরও বেশি নতুন শাখা চালু হয়েছে। লক্ষ্মীপুজোর পর নতুন সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিতে এবং শাখাগুলিকে আরও সক্রিয় করে তুলতে সাত দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। সংঘের দাবি, আগে জেলাপিছু গড়ে প্রায় ১০০টি শাখা থাকলেও নতুন উদ্যোগে সেই সংখ্যা প্রায় ২০০-তে পৌঁছেছে।

সংঘের পূর্ব ক্ষেত্রের বক্তব্য, এই অভিযান সংগঠনের বছরব্যাপী শতবর্ষ উদযাপনেরই অংশ। কোথাও পাঁচ-ছয় জনকে নিয়ে, আবার কোথাও ২০-২৫ জনকে নিয়ে শাখা শুরু হয়েছে। মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মতো জেলায় নতুন শাখায় ৫০-৬০ জনের যোগ দেওয়ার কথা। সংঘের দাবি, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলছে।

শতবর্ষ উদযাপনের প্রচারে ‘পঞ্চবিন্দু’ কর্মসূচির উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতীয়তাবাদী চিন্তার প্রসার, পারিবারিক মূল্যবোধ, অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ, পরিবেশ রক্ষা এবং দেশ গঠনে নাগরিকের দায়িত্ব—এই পাঁচটি বিষয়কে সামনে রেখে সমাজের শিক্ষিত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে। প্রতিটি শাখায় সাধারণত এক ঘণ্টার কর্মসূচিতে সূর্য নমস্কার, শারীরিক কসরত ও ড্রিল থাকে। নতুনদের আগ্রহ ধরে রাখতে কাবাডি, দেশীয় খেলা এবং ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলার উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

তবে রাজ্যে মোট শাখার সংখ্যা এখনই প্রকাশ করতে চাইছে না সংঘ নেতৃত্ব। নতুন শাখায় যোগ দেওয়া সকলেই দীর্ঘমেয়াদে সংগঠনের সঙ্গে থাকবেন কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। ব্যক্তিগত স্বার্থে আসা কেউ কেউ পরে সরে যেতে পারেন বলে মনে করছেন স্বয়ংসেবকদের একাংশ।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments