ওয়েব ডেস্ক: কলকাতা পুরভোটের আগে তৃণমূলের তিন নেত্রী জুঁই বিশ্বাস, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দেবলীনা বিশ্বাসকে ঘিরে দলবদলের জল্পনা ছড়িয়েছে। তাঁদের কেউ কি বিজেপির প্রার্থী হতে চলেছেন? সেই সম্ভাবনা কার্যত খারিজ করে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, শুধু দল বা সংগঠনের পতাকা হাতে ধরলেই প্রার্থী হওয়া যায় না।
বৃহস্পতিবার কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির সঙ্গে টালা প্রত্যয়ের পুজো মণ্ডপে গিয়েছিলেন শমীক। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তৃণমূলকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু ভোট দিয়ে শুধু জামা বদলানোর সুযোগ তৈরি করেনি, মানুষের পরিবর্তন চেয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, পুরভোটে তৃণমূল ছেড়ে আসা নেতাদের প্রার্থী করা নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব সতর্ক অবস্থান নিতে চাইছে।
এই জল্পনার সূত্র কলকাতা পুরসভার কয়েকজন তৃণমূল কাউন্সিলরের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতা পুরনিগমে যাওয়ার সময় তাঁর সভায় জুঁই বিশ্বাস, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ কয়েকজন তৃণমূল কাউন্সিলরকে দেখা গিয়েছিল। তার পর থেকেই তাঁদের বিজেপির প্রার্থী তালিকায় জায়গা পাওয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। দেবলীনার নামও উঠে আসে সম্ভাব্য দলবদলকারীদের তালিকায়।
অন্য দিকে, তৃণমূলের কালীঘাটপন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষের বক্তব্য, কয়েকজন বিজেপির প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর কটাক্ষ, এত দিন যাঁদের বিরুদ্ধে বিজেপি আন্দোলন করেছে, তাঁদেরই দলে নেওয়ার চেষ্টা হলে প্রার্থী সঙ্কটের প্রশ্ন উঠবে।
তবে জল্পনা আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এক নয়। কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটের প্রার্থী তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি। ফলে জুঁই, অনন্যা কিংবা দেবলীনার নাম শেষ পর্যন্ত বিজেপির তালিকায় থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের উপর।




