ওয়েব ডেস্ক: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে (মিডটার্ম) রিপাবলিকান পার্টির বিপর্যয়ের পর এ বার প্রকাশ্যেই ইরান যুদ্ধকে কাঠগড়ায় তুললেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধই নির্বাচনে দলের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। অন্য দিকে, যুদ্ধের রাজনৈতিক মূল্য স্বীকার করলেও নিজের সিদ্ধান্ত থেকে একচুলও সরতে নারাজ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরেই রিপাবলিকান শিবিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে বিতর্ক।
বুধবার সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্টে ভ্যান্স লেখেন, ‘‘আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে।’’ তাঁর বক্তব্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে যাঁরা ট্রাম্প-ভ্যান্স জুটিকে সমর্থন করেছিলেন, তাঁদের একাংশ এ বার ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন। কারণ, তাঁরা যুদ্ধের অবসান চেয়েছিলেন। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, আমেরিকা ফার্স্ট নীতির বাস্তবায়ন এবং ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল ভোটারদের মধ্যে।
ভ্যান্সের বক্তব্য, রিপাবলিকান ভোটাররা ভোট দিতে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁদের অনেকেই দলের প্রার্থীদের পরিবর্তে ডেমোক্র্যাটদের বেছে নিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধের রাজনৈতিক মূল্য কতটা, তা নিয়ে দলের মধ্যে সৎ আলোচনা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
অন্য দিকে, ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, ইরান যুদ্ধ এবং তার জেরে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নির্বাচনে দলের ক্ষতির অন্যতম কারণ। তবে তাঁর দাবি, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে আটকাতে সামরিক অভিযান প্রয়োজন ছিল। একই পরিস্থিতি তৈরি হলে ফের সেই সিদ্ধান্তই নিতেন তিনি।
ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেট—দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে ভ্যান্সের মন্তব্যকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ অবস্থান বদলের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।




