ওয়েব ডেস্ক: নবনিযুক্ত শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে এবার নিয়োগবিধিতে সংশোধনের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) মাধ্যমে আগামী দিনে যাঁরা শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হবেন, তাঁদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে নতুন বিধি তৈরির উদ্যোগ ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে, শিক্ষকদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করার ক্ষমতা রাজ্য সরকারের রয়েছে কি না।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলে ভবিষ্যতে নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন না। পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধানসভা কিংবা লোকসভা— কোনও নির্বাচনেই প্রার্থী হতে পারবেন না তাঁরা। তবে বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না। স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বিধি তৈরি করা হবে। সরকারের যুক্তি, শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে শিক্ষকতার সঙ্গে প্রত্যক্ষ দলীয় রাজনীতির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা প্রয়োজন।
কিন্তু এই যুক্তি মানতে নারাজ শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন, শিক্ষকরা সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা না পেলে তাঁদের উপর সরকারি কর্মীদের মতো বিধিনিষেধ চাপানো যায় কী করে? শিক্ষকদের রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকারও কি এ ভাবে সীমিত করা সম্ভব?
কংগ্রেস সিদ্ধান্তটির আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশের আশঙ্কা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সংজ্ঞা অস্পষ্ট থাকলে পেশাগত দাবিতে আন্দোলন করাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় চলে আসতে পারে।
ফলে শিক্ষার পরিবেশ রাজনীতিমুক্ত রাখার সরকারি যুক্তির পাশাপাশি ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নেও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আদালতের আইনি পরীক্ষায় এই বিধি কতটা উত্তীর্ণ হয়, সেটাই এখন দেখার।




