নয়াদিল্লি: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রবিবার পথে নেমে ছিল বিরোধীরা। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে রামলীলা ময়দান চত্বর। দিল্লির রামলীলা ময়দানে I.N.D.I.A জোটের সমাবেশে ১০ লক্ষ মানুষের সমাগম হবে বলে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে বিরোধীদের সভায় কত মানুষের জমায়েত হয়েছিল, তা নিয়ে হাত ও গেরুয়া শিবিরের রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। এবার সেই বিতর্কে নয়া মাত্রা যোগ করল ব্যবসায়ীরা। রামলীলা ময়দানে সভার জেরে পাইকারি ও খুচরো বাজারে ব্যাপক ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির। তাদের অভিযোগ, যানজট ও যাতায়াতের সমস্যায় দিল্লির ২৫টি বড় বাজারের প্রায় আড়াই লক্ষ দোকান বন্ধ ছিল। যার জেরে ব্যবসা মার খেয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির অঙ্ক ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বলে দাবি চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেরামলীলা ময়দানে বিপুল জনসমাগমের ছবি তৈরি করে ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
ভোট চুরির অভিযোগ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশ করেছিল বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’। রবিবার সকাল থেকে দিল্লির মিন্টো রোড-কনট প্লেস সংযোগস্থল থেকে এক খোলা জিপে চেপে বিরোধীদের যৌথ ‘চলো দিল্লি’ মিছিল রামলীলা ময়দানের দিকে অগ্রসর হয়। সমাবেশে কংগ্রেসের তরফে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, সিপিআইএমের এম এ বেবি, সিপিআই-এর ডি রাজা, সিপিআই-এর দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, জেকেএনসি-র ফারুক আবদুল্লাহ এবং পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতিকেও দেখা গিয়েছে সেখানে। ব্যবসায়ী সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, দিল্লির প্রায় তিন লক্ষ দোকানের মধ্যে আড়াই লক্ষ দোকান সমাবেশের কারণে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চাঁদনি চক, সদর বাজার, কনট প্লেস, করোল বাগ এবং কাশ্মীরি গেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাতেও তার প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। উৎসবের মরশুমে কেনাকাটার ভিড় বাড়ে। দীপাবলির আগে রবিবার সারাদিন দোকান বন্ধ রাখায় ব্যবসা মার খেয়েছে। ফলে যথেষ্ট বিরক্ত তাঁরা।ব্যবসায়ীদের ক্ষতির অভিযোগকে হাতিয়ার করে বিরোধীদের আক্রমণ করেছে বিজেপি।
আরও পড়ুন
সোনিয়াকে ‘আমার নেত্রী’ বলে মমতার নতুন রাজনৈতিক ভঙ্গি, বাংলার পুরনো বিরোধের কী ব্যাখ্যা?
বিরোধীদের সমাবেশে যোগ দেবেন অন্তত ১০ লক্ষ মানুষ। সভাশেষে একাধিক কংগ্রেস নেতা সোশাল মিডিয়ায় রামলীলা ময়দানে ভিড়ের ছবি পোস্ট করেন। সেই ছবিতে অগুণতি মানুষের মাথা দেখা গেলেও, বড় রকমের গোলমাল দেখা যায় সভামঞ্চ ঘিরে। এই জনসভায় মানুষের উপস্থিতি নিয়ে বিরোধী জোটের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল ভারতীয় জনতা পার্টি। বিজেপির দাবি, এই সমাবেশ একেবারেই ফ্লপ বা ব্যর্থ হয়েছে এবং রাহুল গান্ধী যখন মঞ্চে বক্তব্য রাখছিলেন, তখন তাঁর সামনে সারি সারি ফাঁকা চেয়ার পড়ে ছিল। বিজেপির কথায়, মোটেই ভিড় হয়নি রামলীলা ময়দানে। এহেন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু দাবি করলেন, ভিড়ের ভুয়ো ছবি প্রচার করছে কংগ্রেস। ভুয়ো ছবিটাও নিখুঁতভাবে বানাতে পারেননি রাহুলরা।




