HomeScrollসোনিয়াকে ‘আমার নেত্রী’ বলে মমতার নতুন রাজনৈতিক ভঙ্গি, বাংলার পুরনো বিরোধের কী...

সোনিয়াকে ‘আমার নেত্রী’ বলে মমতার নতুন রাজনৈতিক ভঙ্গি, বাংলার পুরনো বিরোধের কী ব্যাখ্যা?

মমতার রাজনৈতিক অবস্থান কি বরাবরই ক্ষমতার অঙ্কে পরিচালিত?

কণাদ দাশগুপ্ত

দিল্লির রামলীলা ময়দানে দাঁড়িয়ে আচমকাই রাজনৈতিক ভঙ্গি বদলে ফেললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে সম্বোধন করলেন ‘আমার নেত্রী’ বলে। শুধু তাই নয়, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেকেও নেতা বলে উল্লেখ করলেন তিনি। রাহুল গান্ধীর প্রশংসাতেও কার্পণ্য করেননি। কিন্তু প্রশ্ন, এই সৌজন্যের আড়ালে কি লুকিয়ে রয়েছে নতুন রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা?

রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, যে কংগ্রেসকে পশ্চিমবঙ্গে বছরের পর বছর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখিয়েছেন মমতা, আজ সেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি এমন আনুগত্যের প্রকাশ কেন? বাংলায় কংগ্রেসের রাজনৈতিক জমি দখল করে তৃণমূলের উত্থান। একাধিক নির্বাচনে কংগ্রেসকে দুর্বল করার রাজনীতিতে তৃণমূলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সেই অতীত ভুলে সোনিয়াকে ‘আমার নেত্রী’ বলা নিছক সৌজন্য, নাকি রাজনৈতিক প্রয়োজনের নতুন প্রকাশ?

বিশেষ করে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং দলের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের আবহে এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে দিল্লিতে সেই কংগ্রেসের নেতৃত্বের প্রতি প্রকাশ্য শ্রদ্ধা।

আরও পড়ুন:

মমতার পাশে বেবি, প্রবল আপত্তি সেলিম -সুজনের

শেষ পর্যন্ত এই ঘটনাকে ঘিরে আরও একটি প্রশ্ন উঠছে—মমতার রাজনৈতিক অবস্থান কি বরাবরই ক্ষমতার অঙ্কে পরিচালিত? বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপড়েন, কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত এবং কংগ্রেসকে কোণঠাসা করার রাজনীতির পর দিল্লিতে সোনিয়াকে ‘আমার নেত্রী’ বলা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক সুবিধাবাদের বিতর্ক উস্কে দেবে। বাংলার মানুষ এই দ্বিচারিতার ব্যাখ্যা চাইতেই পারেন।

বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী ঐক্যের যুক্তি থাকতেই পারে। কিন্তু প্রশ্ন হল, ক্ষমতায় থাকার সময় যে রাজনৈতিক অবস্থান, ক্ষমতা হারানোর পর তার এত দ্রুত পরিবর্তন কেন? আদর্শের রাজনীতি, না কি অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদ—মমতার এই নতুন সমীকরণ সেই প্রশ্নই সামনে আনল।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments