HomeScrollকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আশ্বাসে ওষুধ বন্ধ, নিভল তরুণীর প্রাণ! কাঠগড়ায় ChatGPT

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আশ্বাসে ওষুধ বন্ধ, নিভল তরুণীর প্রাণ! কাঠগড়ায় ChatGPT

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর ভরসার পরিণতি যে এতটা মর্মান্তিক হতে পারে, তা হয়তো কল্পনাও করেনি কেউ

ওয়েব ডেস্ক: একটা যন্ত্রের সঙ্গে কথা বলতে বলতে কখন যে তাকে আপনজন ভেবে ফেলেছিলেন, বুঝতেই পারেননি বোয়েন ওয়ান। চিকিৎসকের পরামর্শ নয়, ক্রমশ ভরসা বেড়েছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর। সেই ভরসার পরিণতি যে এতটা মর্মান্তিক হতে পারে, তা হয়তো কল্পনাও করেননি ৩১ বছরের তরুণী। মেয়েকে হারিয়ে এবার সেই প্রযুক্তি সংস্থার বিরুদ্ধেই আদালতের দ্বারস্থ হলেন অসহায় বাবা-মা।

আমেরিকার সিয়াটলের বাসিন্দা বোয়েন ছিলেন অ্যামাজনের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। দীর্ঘদিন ধরে মৃগীরোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত খেতেন ল্যামোট্রিজিন। কিন্তু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কথা বলার দক্ষতা কমে যাচ্ছে, এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল তাঁর। চাকরি হারানোর পর নতুন কাজের সাক্ষাৎকারে সেই সমস্যা বাধা হতে পারে বলেও চিন্তিত ছিলেন তিনি।

অভিযোগ, সেই উদ্বেগের সুযোগেই ChatGPT-র পরামর্শে ধীরে ধীরে ওষুধের মাত্রা কমাতে শুরু করেন বোয়েন। ৪০০ মিলিগ্রামের দৈনিক মাত্রা থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওষুধ সম্পূর্ণ বন্ধ করার পরিকল্পনা তৈরি করে দিয়েছিল চ্যাটবট। এমনকী চিকিৎসকদের বিষয়টি না জানানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। শারীরিক অস্বাভাবিকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল চ্যাটবট।

আরও পড়ুন:

চরবৃত্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, সতর্কবার্তা সাইবার বিশেষজ্ঞদের

২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সিয়াটলের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় বোয়েনের নিথর দেহ। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উঠে আসে মৃগীরোগজনিত আকস্মিক মৃত্যু।

২৭ অক্টোবর OpenAI ও সংস্থার প্রধান স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তাঁর বাবা-মা কুন ওয়ান ও মেইকিন শু। তাঁদের অভিযোগ, মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী প্রযুক্তির বিপজ্জনক পরামর্শ।

OpenAI ঘটনাটিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে জানিয়েছে। তবে কোনও প্রযুক্তি কি কখনও একজন চিকিৎসকের বিকল্প হতে পারে? মেয়েকে হারানো বাবা-মায়ের মামলা সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে আনল।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments