ওয়েব ডেস্ক: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাগুলির বিচার রাজ্যের বাইরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আবেদন প্রত্যাহার করল সিবিআই। সুপ্রিম কোর্টে প্রায় ২০টি আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি চায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, ‘পরিস্থিতির পরিবর্তন’ হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়।
এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য বুঝতে ফিরে যেতে হবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে। ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় খুন, হামলা, হুমকি ও ঘরছাড়ার অভিযোগ ওঠে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে খুন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের তদন্তভার পায় সিবিআই। পরে তদন্তকারী সংস্থা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে জানায়, সাক্ষী ও অভিযোগকারীদের ভয় দেখানো এবং সরকারি কৌঁসুলিদের উপর চাপ সৃষ্টির আশঙ্কায় রাজ্যে নিরপেক্ষ বিচার ব্যাহত হতে পারে। সেই যুক্তিতেই বিচারপ্রক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গের বাইরে সরানোর আর্জি জানানো হয়েছিল।
সিবিআইয়ের আবেদনের আইনি দিকটি আগেও প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ মামলাগুলি সরানোর আবেদনে রাজ্যের গোটা বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে ব্যাপক অভিযোগ তোলায় আপত্তি জানায়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যের সমস্ত আদালতকে প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করছে বলে দাগিয়ে দেওয়া যায় না। সেই সময়ও সিবিআই আবেদন প্রত্যাহার করেছিল।
আরও পড়ুন:
দুর্গের দেওয়ালে ফাটল, পরিচিত জমিতেই নতুন রাজনৈতিক প্রশ্নের মুখে বিজেপি
এ বার অবস্থান বদলের প্রেক্ষাপটে রয়েছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল। বিজেপি সরকার গঠনের পর সিবিআইয়ের ‘পরিস্থিতির পরিবর্তন’-এর যুক্তি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক তাৎপর্য পেয়েছে। তবে সিবিআই নির্দিষ্ট করে কোন পরিস্থিতির পরিবর্তনের কথা বলেছে, তা আদালতে দেওয়া বক্তব্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়নি। তাই আবেদন প্রত্যাহারকে আগের অভিযোগগুলি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়া বা মামলাগুলির নিষ্পত্তি হিসেবে দেখা যাবে না।
এদিকে, ২০২১ সালের হিংসা সংক্রান্ত অভিযোগে রাজ্যের সিআইডি ৪৫৮টি অনুসন্ধান শুরু করেছে, ১৮১টি নতুন এফআইআর দায়ের করেছে এবং আগে চূড়ান্ত রিপোর্ট দেওয়া ৫৯টি মামলা পুনরায় খুলেছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ফলে এখন মূল প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির বিচার কীভাবে এগোবে এবং অভিযোগকারী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে। মামলা বাংলাতেই চলার পথ খুলল; কিন্তু বিচার কতটা দ্রুত ও নিরপেক্ষ হয়, তার উত্তর মিলবে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপেই।




