ওয়েব ডেস্ক: দুর্গাপুজোর ঠিক এক মাস পর কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে পূজিত হন দেবী জগদ্ধাত্রী। দেবী দুর্গার আরও একটি রূপ জগদ্বাত্রী। দুর্গাপুজোর মতো সব রীতি আচার মেনে দেবী জগদ্ধাত্রীর আরাধনা করা হয়। এই দেবীর চার হাত, তিনি সিংহের উপর আসীন। আর সিংহের নীচে থাকে একটি হস্তিমুণ্ড। মূলত কৃষ্ণনগর ও চন্দননগরে মহা ধূমধামের সঙ্গে জগদ্ধাত্রী পুজো পালিত হয়। এবার ভিড় সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে চিন্তা। বুড়িমাকে দেখতে আসা ভিড়কে সামাল দিতে কী করা হচ্ছে, তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এবার দুর্গাপুজোতে কলকাতার চোরবাগানের বিপর্যয়ের পরে চিন্তায় কৃষ্ণনগরের একাধিক পুজো মণ্ডপ। অঞ্জলি থেকে ঘট বিসর্জন ও প্রতিমা নিরঞ্জনে ভিড় নিয়ন্ত্রণে আনতে কী করতে হবে. তাই নিয়ে চিন্তা বেড়েছে পুজোকর্তাদের। গত কয়েক বছরে ক্রমাগত ভিড় বেড়েছে কৃষ্ণনগরে। সকাল-বিকেল-সন্ধে-মাঝরাত, প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে শুধুই মানুষের ভিড়। এত ভিড়, ম্যানেজ করতে পারবে তো পুজো কমিটি? কয়েকটি পুজো কমিটির রাশ এবার চলে গিয়েছে নতুন লোকের হাতে।
কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যমণ্ডিত জগদ্ধাত্রী পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ চাষাপাড়া বুড়িমা। থিমের কোনও জাঁকজমক না থাকলেও মায়ের রূপ ও সাজসজ্জা দেখতেই ভিড় উপচে পড়ে। হাজাপ হাজার মানুষ আসেন মাকে দেখতে। ভক্তদের মানতের সোনার গয়নায় সেজে ওঠেন বুড়িমা। সংকীর্ণ জায়গায় যে কোনও সময়ে বিপদ হতে পারে। আগাম প্রস্তুতি না থাকলে দ্বিতীয় চোরবাগান ঘটতে দেরি হবে না। প্রতিবারের মতো এবারও বিপুল জনসমাগম সামলানোই এখন প্রশাসন ও পুজো উদ্যোক্তাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। চোরবাগান সর্বজনীনের পদপিষ্টের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, এবার অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? কী পরিকল্পনা করছে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলা? দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরোনোর পৃথক পথ, পর্যাপ্ত ব্যারিকেড, সিসিটিভি নজরদারি, পুলিশ মোতায়েন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা— এই বিষয়গুলি ঘিরেই এখন প্রশ্ন।
বুড়িমা-র পুজো কমিটি সূত্রে খবর, ভিড় নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে জনসমাগম সামাল দিতে প্রস্তুত পুলিশ প্রশাসন। ঝুঁকি নেওয়া হবে না। পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশ পালন করা হবে। কৃষ্ণনগরের আরও এক ঐতিহ্যবাহী কাঁঠালপোতা ছোটোমা পুজো কমিটি সূত্রে খবর, কৃষ্ণনগরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পুজো হয়। এক জায়গায় জনসমাগম হয় না। শুধুমাত্র বুড়িমার কাছে ভিড় উপচে পড়ে। অন্যদিকে ছোটোমার মণ্ডপে যে ভিড় হয়, তাতে পুলিশ এবং কমিটির সদস্য ভলান্টিয়াররা গোটা প্রক্রিয়া সামাল দিতে পারেন।




